কাটোয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম উধাও! এসডিও অফিসের সামনে সারারাত লাইন, ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে চরম ভোগান্তির ছবি সামনে এল। মহকুমা শাসকের (এসডিও) দপ্তরের সামনে গত রাত থেকেই কয়েক হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন নিজেদের নাম ভোটার তালিকায় খুঁজে না পেয়ে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি।অভিযোগ, বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আবার একই সঙ্গে অভিযোগ উঠছে অবৈধ নাম থাকা নিয়েও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া শহরের পাশাপাশি তেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট এবং কাটোয়া থানার অন্তর্গত খেজুরটি এলাকা থেকেও বহু মানুষ ভোরের আগেই এসে লাইনে দাঁড়ান। অনেকেই রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে, শুধুমাত্র নিজেদের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার আশায়।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক মানুষের অভিযোগ, বছরের পর বছর ভোট দিয়ে আসা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই তাদের নাম তালিকায় নেই। অথচ কিছু অচেনা নাম ঠিকই রয়ে গেছে।এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তাঁরা।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায় এক মায়ের ক্ষেত্রে।মাত্র ছয় মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। শিশুকে কোলে নিয়েই দুধ খাওয়াচ্ছেন, তবুও লাইনের জায়গা ছাড়ছেন না। কারণ তাঁর কথায়, “আজ না থাকলে হয়তো নাম আর ফেরানো যাবে না।” এই চিত্রই স্পষ্ট করে দিয়েছে পরিস্থিতির তীব্রতা ঠিক কতখানি।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কিছু আধিকারিক। নাম সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে অস্পষ্টতা এবং পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার কারণে ভোগান্তি আরও বেড়েছে বলে দাবি সাধারণ মানুষের। অনেকেই জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা সাহায্য ছাড়া শুধুমাত্র লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাই যেন একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে স্পষ্ট কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে সূত্রের খবর, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করা হতে পারে।

ভোটের আগে এই ধরনের গাফিলতি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল।

সব মিলিয়ে, কাটোয়ার এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে। সাধারণ মানুষের একটাই দাবি,দ্রুত সমস্যার সমাধান করে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *