তিস্তার স্রোতে নিখোঁজ বিজেপি কর্মী, প্রচারের মাঝেই ময়নাগুড়িতে মর্মান্তিক বিপর্যয়
ভোটের উত্তাপে যখন সরগরম গোটা বাংলা, ঠিক সেই সময়ই জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়িতে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে গিয়ে তিস্তা নদীর জলে তলিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন এক বিজেপি কর্মী। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাগুড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ডালিম রায়ের সমর্থনে শুক্রবার প্রচার কর্মসূচি চলছিল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায়। মেখলিগঞ্জ ও ময়নাগুড়ি ব্লকের দুনদার বাড়ি এলাকায় ওই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন করতলী গ্রামের বাসিন্দা, ৩৫ বছর বয়সি বিজেপি কর্মী অমল রায়।এলাকাটি তিস্তা নদী দ্বারা বিভক্ত হওয়ায় যাতায়াতের প্রধান ভরসা নৌকা। জানা গিয়েছে, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নৌকায় করে নদী পার হওয়ার সময় আচমকাই ভারসাম্য হারিয়ে প্রবল স্রোতে পড়ে যান অমলবাবু। নদীর গভীরতা ও জলের টান এতটাই বেশি ছিল যে, সঙ্গীরা চেষ্টা করেও তাঁকে উদ্ধার করতে পারেননি।ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ এর একটি বিশেষ দল। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ ওই কর্মীর কোনো হদিস মেলেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান জারি রয়েছে।ভোটের আবহে এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা করতলী গ্রামে। নিখোঁজ কর্মীর খোঁজে নদীর পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিবার পরিজনের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।এদিকে, ঘটনার পরেই নিখোঁজ কর্মীর বাড়িতে পৌঁছন ময়নাগুড়ি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ডালিম রায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান তিনি। শোকস্তব্ধ পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রার্থী।নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপের মাঝেই এই দুর্ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল নদী পারাপারের নিরাপত্তা নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত ঝুঁকি নিয়েই নৌকায় পারাপার করতে হয়, অথচ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই।ভোটের ঠিক আগে এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজনৈতিক আবহেও নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া।





