বর্ধমানে পূজো দিয়েই স্বপন দেবনাথের আক্রমণ, ‘সম্প্রীতি নষ্টে বিজেপি বাড়ি বাড়ি প্রচার চালাচ্ছে’

বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক তরজা। পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী স্বপন দেবনাথ রবিবার বর্ধমানে পূজো দিয়ে নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করেন। প্রচার শুরু করেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার লক্ষ্যেই বিজেপি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছে।রবিবার সকালে বর্ধমান শহরের ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দেন স্বপন দেবনাথ। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মানুষকে ধর্মের নামে ভাগ করার চেষ্টা চলছে। বাংলার মাটি তা কখনও মেনে নেবে না।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এবারের নির্বাচনে সম্প্রীতির প্রশ্নকে বড় ইস্যু করেই লড়াইয়ে নামছে তৃণমূল।শুধু সর্বমঙ্গলা মন্দিরেই নয়, এরপর তিনি বিরহাটা এলাকার বড়মা কালী মন্দিরেও পুজো দেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি এই ধর্মীয় আচার পালনের মধ্য দিয়ে তিনি জনসংযোগ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এদিন তিনি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুস্থতা কামনাও করেন।একইসঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা,বন্দ্যোপাধ্যায়এর নেতৃত্বে ফের সরকার গঠনের আশা ব্যক্ত করেন স্বপন দেবনাথ। তাঁর কথায়, “মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হবেন।এই বিশ্বাস তাঁর রয়েছে।”প্রাক্তন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এবারের নির্বাচনে পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনী প্রচার জোরদার করেছে সব রাজনৈতিক দল। তৃণমূল, বিজেপি সহ প্রধান দলগুলি মাঠে নেমে পড়েছে শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে উন্নয়নের পাশাপাশি ধর্ম ও পরিচয়ের রাজনীতি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। সেই প্রেক্ষিতেই স্বপন দেবনাথের এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচারকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, তা ভোটের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, বর্ধমানের মন্দির চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট।নির্বাচনের আগে সম্প্রীতি বনাম বিভাজনের ইস্যুতেই তীব্র হতে চলেছে বাংলার রাজনৈতিক লড়াই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *