ভবানীপুরে দেওয়াল লিখন থেকে তীব্র কমিশন আক্রমণ, ‘৬০ হাজারে জিতবেন মমতা’,আত্মবিশ্বাস শোভনদেবের

নির্বাচনের আবহে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এদিন কলকাতা পুরসভার ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের রূপনারায়ণ নন্দন লেনে স্বয়ং দেওয়াল লিখনে অংশ নিয়ে নজর কাড়লেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসএর বালিগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী হলেও ভবানীপুরে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়এর সমর্থনে প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা নেন।দেওয়াল লিখনের ফাঁকেই নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান শোভনদেব। তাঁর অভিযোগ, এস আই আর প্রক্রিয়ায় সাপ্লিমেন্ট নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। “পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে,” মন্তব্য তাঁর। তিনি দাবি করেন, অন্য রাজ্যে একই প্রক্রিয়া চললেও এমন বিশৃঙ্খলা নেই, অথচ বাংলায় টার্গেট করে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “এভাবে সংসদীয় গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে অপমান করা হচ্ছে।”এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শোভনদেব। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অত্যন্ত নিম্নমানের।পাড়ার নেতারাও এর থেকে ভালো বক্তব্য রাখেন।”এস আই আর প্রক্রিয়া সময়মতো সম্পূর্ণ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, যদি প্রকৃত ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারেন, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য বড় অপমান হবে। যদিও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রেখেই তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত বিচারপতিরা যে পদক্ষেপ নিচ্ছেন, তার উপর ভরসা আছে।”এদিন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন শোভনদেব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই লোডশেডিং এড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি জানান, সিইএসসি ইউনিয়নের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই আলোচনা করবেন।বর্তমানে মমতা উত্তরবঙ্গে প্রচারে ব্যস্ত থাকলেও “ঘর সামলানোর” দায়িত্ব দলের অন্যান্য নেতাদের উপর বর্তায় বলেই মনে করেন শোভনদেব। “উনি আমার নেত্রী। আমার জেতার কোনও মূল্য নেই, যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড় ব্যবধানে না জেতেন,”স্পষ্ট বার্তা শোভনদেবের।তাই ভবানীপুরে জয়ের ব্যবধান নিয়ে জল্পনার মাঝেই আত্মবিশ্বাসী শোভনদেবের দাবি ২৫ হাজার নয় ৬০ হাজার।সংখ্যা নিয়ে তৈরী হওয়া এই বিতর্কে তিনি সোজাসাপ্টা বলেন, “৬০ হাজারেই জিতবেন মমতা।” তাঁর মতে, ভবানীপুরের মানুষের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ঘরের মেয়ে’। এলাকার বাসিন্দারা তাঁর রাজনৈতিক লড়াই, উত্থান এবং প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী।শোভনদেবের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যের উন্নয়ন দৃশ্যমান। “বাংলাকে ১৪তম স্থান থেকে তিন নম্বরে তুলে আনা হয়েছে। অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করানো হয়েছে,”—বলেন তিনি।ভোটের আগে এই দেওয়াল লিখন ও তীব্র রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ভবানীপুরে লড়াই শুধু ভোটের নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাব ও জনসমর্থনের পরীক্ষাও বটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *