মানিকতলায় সৌজন্যের রাজনীতি, প্রাক্তন সহযোদ্ধা এবার প্রতিদ্বন্দ্বী,তবু গণতন্ত্রের বার্তা স্পষ্ট

বিধানসভা ভোটের উত্তাপে যখন রাজনৈতিক ভাষা ক্রমশ তীক্ষ্ণ, তখনই মানিকতলা কেন্দ্রে দেখা গেল এক অন্য ছবি।সৌজন্য আর রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অনন্য নজির। এ বার এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন একদা তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী তাপস রায়। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন প্রয়াত মন্ত্রী সাধন পান্ডের কন্যা শ্রেয়া পান্ডে।রাজনৈতিক ময়দানে আজ তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, ইতিহাস বলছে অন্য কথা। তাপস রায় এবং সাধন পান্ডে। উভয়েরই রাজনৈতিক জীবনের গুরু ছিলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা প্রিয় রঞ্জন দাসমুন্সি।কংগ্রেসের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে পরবর্তীতে ভিন্ন রাজনৈতিক পথে হাঁটলেও, সেই পুরনো সম্পর্ক ও রাজনৈতিক সংস্কার আজও যেন অটুট।রবিবারের প্রচারে সেই পুরনো সম্পর্কেরই প্রতিফলন দেখা গেল। রাজনৈতিক মতাদর্শের লড়াই থাকলেও ব্যক্তিগত সৌজন্য বজায় রেখে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন প্রার্থীরা। উপস্থিত সাধারণ মানুষও প্রত্যক্ষ করেন সেই বিরল দৃশ্য।যেখানে রাজনীতি শুধুই সংঘাত নয়, মানবিক সম্পর্কেরও এক গুরুত্বপূর্ণ পরিসর।এই কেন্দ্রের লড়াই তাই শুধু ভোটের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এক বৃহত্তর বার্তা বহন করছে। বর্তমান সময়ে যখন রাজনৈতিক মেরুকরণ তীব্র, তখন মানিকতলা দেখাল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা মানেই শত্রুতা নয়। বরং গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার মধ্যেই।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের সৌজন্যপূর্ণ আচরণই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। কারণ, গণতন্ত্র কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়।এটি মানুষের কণ্ঠস্বরকে সম্মান জানানোর একটি প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক ময়দান যতই কঠোর হোক, সেই প্রক্রিয়াটি যেন কখনও রুদ্ধ না হয়, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।এখন দেখার, মানিকতলার এই সৌজন্যের ছবি কি গোটা বাংলার নির্বাচনী আবহে ছড়িয়ে পড়ে, নাকি এটি শুধুই একটি ব্যতিক্রম হিসেবেই থেকে যায়। তবে আপাতত, এই কেন্দ্রই মনে করিয়ে দিল রাজনীতি মানেই কেবল বিভাজন নয়, কখনও কখনও তা একতারও প্রতিচ্ছবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *