প্রিমিয়াম পেট্রোলে লিটার প্রতি ২ টাকা বৃদ্ধি, যুদ্ধের আঁচ কি জ্বালানিতে?
দেশ জুড়ে প্রিমিয়াম পেট্রলের দামে লিটার প্রতি ২ টাকা বৃদ্ধি করল হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ম কর্পোরেশন লিমিটেড বা এইচপিসিএল। শুক্রবার থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। তবে সাধারণ পেট্রোল বা ডিজ়েলের খুচরো দামে কোনও পরিবর্তন হয়নি।যা কিছুটা স্বস্তির খবর সাধারণ গ্রাহকদের জন্য।এই মূল্যবৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ সংস্থা স্পষ্টভাবে জানায়নি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতকে ঘিরে জল্পনা বাড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পশ্চিম এশিয়াতে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ। অভিযোগ, এই পথ আংশিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।যার ফলে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। ভারতের একাধিক জাহাজও সেখানে আটকে পড়েছিল।যদিও কিছু জাহাজকে পরে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়।তবে এরপরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই দাবি করেছে কেন্দ্র এবং তেল সংস্থাগুলি। এইচপিসিএল জানিয়েছে, দেশে অপরিশোধিত তেলের জোগানে কোনও ঘাটতি নেই। বরং একাধিক তেলবাহী জাহাজ আসছে, ফলে সরবরাহ আরও মজবুত হবে। গুজবে কান না দেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।এদিকে শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত ডিজ়েলের দামে বড়সড় বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে।লিটার প্রতি প্রায় ২২ টাকা বেড়েছে। যদিও এই বৃদ্ধি সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের ওপর প্রভাব ফেলবে না।তবুও পরিবহণ খরচ বাড়ার মাধ্যমে পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সম্প্রতি ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছুঁয়েছিল। যা পরে কিছুটা নেমে ১০৫ ডলারের কাছাকাছি এসেছে। তবুও অস্থিরতা কাটেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।প্রিমিয়াম পেট্রল, যা অনেকেই ‘পাওয়ার পেট্রল’ মূলত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বা বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত হয়। এতে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং মাইলেজও কিছুটা উন্নত হয়। তাই এই পেট্রলের দাম বাড়লেও সাধারণ গাড়িচালকদের ওপর তার সরাসরি প্রভাব তুলনামূলক কম।সব মিলিয়ে, আপাতত সাধারণ পেট্রলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও প্রিমিয়াম জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতা ভবিষ্যতে আরও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে কেন্দ্র, তবে বিশ্ববাজারের গতিপ্রকৃতিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে দেশের জ্বালানির দাম কোন পথে যাবে।





