আরজি কর লিফ্ট মৃত্যুকাণ্ডে নজরদারির ঘাটতি স্বীকার,জরুরি বৈঠক অতীনের
ফের চর্চায় উঠে এল কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। হাসপাতালের লিফ্টে আটকে পড়ে ৪০ বছর বয়সি এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ ফের জোরাল হল। তৃণমূল বিধায়ক অতীন ঘোষ শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর স্পষ্টভাবেই নজরদারির অভাবের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। একই সঙ্গে সোমবার রোগী কল্যাণ সমিতির জরুরি বৈঠক ডাকার ঘোষণা করেন তিনি।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লিফ্ট বিভ্রাটকাণ্ডে ইতিমধ্যেই কয়েক জনকে থানায় তলব করা হয়েছে। লিফ্টম্যানকেও ডেকে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা ও নজরদারির দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলবে তদন্তকারী দল বলেই সূত্রের খবর। কারও গাফিলতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে পুলিশ। আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে যান কলকাতা পুলিশের ডিসি উত্তর দীনেশ কুমার। প্রাথমিক তদন্তে লিফ্ট রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা প্রোটোকল এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের উপস্থিতি।এই তিনটি বিষয়েই ফোকাস রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।অতীন ঘোষ বলেন, “সোমবার রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে এই ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হবে। স্থানীয় স্তরের প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই এই দুর্ঘটনা,এটা অস্বীকার করার উপায় নেই বলে দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।” তিনি আরও জানান, লিফ্ট পূর্ত দফতরের অধীনে হলেও তার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের দায় এড়াতে পারেন না সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক। তাঁর কথায়, “২৪ ঘণ্টা লিফ্টম্যান থাকার নিয়ম থাকা সত্ত্বেও কেন ঘটনাস্থলে কেউ ছিলেন না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। নিরাপত্তারক্ষীরা দায়িত্বে না থাকলে, সেটাও বড় ব্যর্থতা।” সংশ্লিষ্ট এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি।হাসপাতাল সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কর্তৃপক্ষ বৈঠকে বসেছে। কী কারণে লিফ্ট বিভ্রাট ঘটল এবং কীভাবে এমন দুর্ঘটনা ঘটল, তা বিশদে তদন্ত করা হবে।এই ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দায়বদ্ধতা—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন নজর তদন্তকারীদের। সোমবারের বৈঠক এবং পুলিশের তদন্ত—দু’দিকেই এখন নজর শহরের।





