কমিশনের লাগাতার অপসারণে আইনি প্রশ্ন রাজ্যের, হাই কোর্টে শুনানি আগামী সপ্তাহে
রাজ্যের একের পর এক আমলা ও পুলিশকর্তাকে লাগাতার অপসারণ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধল। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপের বৈধতা নিয়েই এ বার কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু।টানা প্রশাসনিক রদবদল চলিয়ে গেছে কমিশন বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশ এর কমিশনার সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে পদ থেকে সরানো হয়েছে। বদল হয়েছে বেশ কয়েকটি জেলার জেলাশাসকও।একই সঙ্গে কমিশন কড়া ভাবে জানিয়ে দিয়েছে, অপসারিত আধিকারিকদের এ রাজ্যে ভোট সংক্রান্ত কোনও কাজে আপাতত নিযুক্ত করা যাবে না।এই প্রেক্ষিতে এবার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন তুললেন। রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে পাঠানোর অধিকার কি আদৌ নির্বাচন কমিশনের রয়েছে? তাঁর দাবি, এ ভাবে শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের সরিয়ে দিলে রাজ্যের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হতে পারে।একই ইস্যুতে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের উদ্যোগ নিয়েছেন আইনজীবী অর্ক নাগ।অপসারণের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের অনুমতিও চাওয়া হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুনানির দিন ধার্য হয়েছে।অন্যদিকে, অপসারিত বহু আধিকারিককে ইতিমধ্যেই ভিনরাজ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে পাঠিয়ে দিয়েছে কমিশন। এই পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ফলে নির্বাচনপূর্ব প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের পাশাপাশি আইনি লড়াইও এখন কেন্দ্রবিন্দুতে। আগামী সপ্তাহের শুনানিতেই স্পষ্ট হতে পারে, কমিশনের এই পদক্ষেপ কতটা আইনসম্মত।





