যুদ্ধবিরোধী সুরে রাজপথে বামফ্রন্ট, গ্যাস মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতেও নিশানা কেন্দ্রকে
সিপিআইএম সহ বামফ্রন্টের ডাকে বুধবার কলকাতার রাজপথে নামল যুদ্ধবিরোধী মিছিল। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত, বিশেষত মার্কিন ইজরায়েল যৌথ বাহিনীর ইরান সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি সংগঠিত হয়। একই সঙ্গে দেশে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি ও গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকেও তীব্রভাবে আক্রমণ করা হয় এদিন।বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দেশে গ্যাসের কালোবাজারি ও মূল্যবৃদ্ধি বেড়েছে। এই ইস্যুতে কঠোর সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি তোলেন তারা। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশনীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলা হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বতন্ত্র কূটনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ণ করে মার্কিন প্রভাবের কাছে ‘আত্মসমর্পণ’ করা হচ্ছে।মিছিল শুরু হয় কলেজ স্কোয়ার থেকে।মিছিল শেষ হয় শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন স্মার্ট বাজার এলাকায়। পথে সূর্য সেন স্ট্রিট, রাজা রামমোহন সরণী, ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া মোড় এবং বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট হয়ে এগোয় মিছিল। বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন এবং ছাত্র যুব কর্মীদের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য রূপ নেয় মিছিলটি।বামফ্রন্ট কমিটি, পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আন্দোলন কেবল আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলা অর্থনৈতিক ইস্যুগুলিকেও সামনে আনছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা সরাসরি জনজীবনে চাপ সৃষ্টি করছে বলে দাবি তাদের।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বাম শিবির। যুদ্ধ, অর্থনীতি ও বিদেশনীতি,এই তিনটি বিষয়কে একসুতোয় বেঁধে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলই এখানে স্পষ্ট।সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রতিবাদ থেকে শুরু করে স্থানীয় অর্থনৈতিক অসন্তোষ।দুইয়ের মিশ্রণে রাজপথে বামেদের এই মিছিল নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





