দুই আসনে হুমায়ুন, লক্ষ্য ‘তৃণমূলকে শিক্ষা’,সত্যি কি মুর্শিদাবাদে বদলাচ্ছে ভোটের অঙ্ক?

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদ জেলায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় মোড় আনলেন হুমায়ুন কবীর। বুধবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এক নয়,দুটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। বেলডাঙা নয়, বরং রেজিনগর ও নওদা থেকেই লড়াইয়ে নামছেন হুমায়ুন। একই সঙ্গে তাঁর বার্তা স্পষ্ট।এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং “তৃণমূলকে শিক্ষা দেওয়ার” লক্ষ্যেই নতুন রণকৌশল সাজানো হয়েছে।বুধবার দুপুরে নিজের দলের পক্ষ থেকে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৮২টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। বাকি পূর্ণাঙ্গ তালিকা ২২ মার্চ প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এই আংশিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়েই রাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ে নিজের উপস্থিতি জোরদার করতে চাইছেন মুর্শিদাবাদের এই প্রভাবশালী নেতা।নওদায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বাজি হিসেবে রাজনৈতিক মহলের মত, হুমায়ুনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নওদা কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়া। এই কেন্দ্রে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বিদায়ী বিধায়ক সাহিনা মমতাজ খানকে প্রার্থী করেছে।স্থানীয় স্তরে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই অসন্তোষকেই কাজে লাগাতে চাইছেন হুমায়ুন বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।স্থানীয় সূত্রের দাবি, সাহিনাকে পুনরায় প্রার্থী করায় তৃণমূলের একাংশ ক্ষুব্ধ। সেই বিক্ষোভের জেরে দলীয় কর্মীদের একটি অংশ বিকল্প রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছে। হুমায়ুন নিজেও দাবি করেছেন, তৃণমূলের ‘বিক্ষুব্ধ’ শিবিরের অনেকেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ফলে নওদা কেন্দ্রে সরাসরি লড়াইয়ের পাশাপাশি ‘অভ্যন্তরীণ ভাঙন’ বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।রেজিনগর কেন্দ্র থেকে হুমায়ুনের প্রার্থী হওয়া একপ্রকার প্রত্যাশিত ছিল।কারণ দুটো।এক রেজিনগরে পুরনো ঘাঁটি মজবুত করা, অন্যদিকে তাঁর পুরো শক্তিশালী সাংগঠনিক প্রভাবকে আরো শক্তিশালী করা।ফলে একদিকে যেখানে নওদায় নতুন সমীকরণ তৈরি করার চেষ্টা, অন্যদিকে রেজিনগরে নিজের ভিত্তি মজবুত রাখার কৌশল নিয়েছেন তিনি।প্রথম দিকে জল্পনা ছিল, বেলডাঙা থেকে লড়তে পারেন হুমায়ুন। বিশেষ করে সেখানে ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছিল। তবে সেই পথে না হেঁটে তিনি বেলডাঙায় দলের রাজ্য সভাপতি সৈয়ব আহমেদ কবিরকে প্রার্থী করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে সংগঠনকে সামনে রাখার বার্তা দিয়েছেন হুমায়ুন।হুমায়ুনের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মুর্শিদাবাদের একাধিক প্রাক্তন বা টিকিট বঞ্চিত তৃণমূল নেতার অনুগামীরা ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ফরাক্কা, জলঙ্গি, বেলডাঙার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও বাস্তবে কতটা সমর্থন তিনি সংগঠিত করতে পারবেন, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েই গেছে।তবে এতকিছুর পরেও একক লড়াইয়ে প্রথমে ভরসা পাননি হুমায়ুন।এক সময় মহম্মদ সেলিম-এর সঙ্গে বৈঠক করে বামেদের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা খুঁজেছিলেন হুমায়ুন।পরে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি-র দল মিমের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গেও আলোচনা করেন, সেখানেও সমঝোতা হয়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত একক লড়াইয়ের পথেই এগোচ্ছেন তিনি।তবে এখন নজর কিন্তু ২২ মার্চের দিকেই। যেদিন পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবেন হুমায়ুন। ততদিনে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের কতটা সমর্থন তিনি নিজের দিকে টানতে পারেন, সেটাই নির্ধারণ করবে মুর্শিদাবাদের ভোট সমীকরণের ভবিষ্যৎ।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংখ্যার নিরিখে না হলেও, স্থানীয় স্তরে সমীকরণ বদলাতে হুমায়ুন ফ্যাক্টর এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতেই পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *