ভোটের আগে কমিশনের মেগা শাফল,লাগাতার প্রশাসনিক রদবদলে সরানো হল ডিআইজি-ডিএম-সিপি
বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরে নজিরবিহীন রদবদল শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। রবিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই ‘মেগা শাফল’। এখনও অব্যাহত। একাধিক আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককে সরিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে ভোট সংক্রান্ত কোনও কাজে তাঁদের আর যুক্ত রাখা যাবে না।প্রথম ধাক্কাতেই সরানো হয়েছে পাঁচ ডিআইজি। রায়গঞ্জ, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং প্রেসিডেন্সি রেঞ্জে নতুন ডিআইজি নিয়োগ করা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশ, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার মধ্যে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের দায়িত্ব নিতে হবে। একই সঙ্গে ১১টি জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করে প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে এতদিন জেলাশাসকরাই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্বে ছিলেন।এতেই শেষ নয়। কলকাতার প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও বড়সড় রদবদল হয়েছে। দুই ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার বা ডিইওকে বদল করে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্মিতা পাণ্ডে এবং রণধীর কুমারকে। তাঁদেরও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পুলিশ প্রশাসনেও ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজ্যের ডিজিপি পদে পীযূষ পাণ্ডের পরিবর্তে সিদ্ধনাথ গুপ্তকে আনা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজয় নন্দকে। পাশাপাশি এডিজি আইনশৃঙ্খলা, ডিজি কারা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন মুখ বসানো হয়েছে।জেলার স্তরেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে এই রদবদলের। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ারে নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার মধ্যে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে।এর আগে একধাক্কায় ১২ জন পুলিশ সুপারকেও সরিয়ে দেয় কমিশন। পাশাপাশি চারটি পুলিশ কমিশনারেটের কমিশনার এবং এডিজি পদমর্যাদার আধিকারিকদের ও অপসারণ করা হয়।বুধবার রাতে আরও বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিধাননগর ও শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে তাঁদের তামিলনাড়ুতে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।কমিশনের এই পদক্ষেপের প্রভাব পড়েছে গোটা প্রশাসনিক কাঠামোয়। একাধিক অপসারিত আধিকারিককে অন্যত্র আইবি, সিআইডি, এসটিএফ বা ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, সরানো হলেও কাউকেই সম্পূর্ণভাবে দায়িত্বহীন রাখা হয়নি।কমিশন সূত্রের দাবি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই রদবদল। ভোটের সূচি ঘোষণার পরপরই প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই ধরনের বদলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন।সব মিলিয়ে, ভোটের আগে রাজ্যে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই লক্ষ্যেই চলছে এই ধারাবাহিক ‘মেগা শাফল’, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।





