বীরত্বের মূল্য জীবন,দিঘার ঢেউয়ে হারিয়ে যাওয়া রাহুলের শেষযাত্রায় জনস্রোত কেওড়াতলায়
বাংলা চলচ্চিত্র জগত শোকস্তব্ধ। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হল কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। প্রিয় অভিনেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমালেন পাড়া প্রতিবেশী, আত্মীয় স্বজন থেকে সহকর্মীরা। বিজয়গড়ের বাড়ি থেকে শুরু হওয়া শেষযাত্রা যেন পরিণত হয়েছিল জনস্রোতে।অভিনেতার প্রতি মানুষের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার নিঃশব্দ সাক্ষ্য।ঘটনার সূত্রপাত দিঘায়।ভোলে বাবা পার করেগা নামের একটি প্রজেক্টের শুটিং চলাকালীন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সহ অভিনেত্রী শ্বেতা হঠাৎ পা পিছলে সমুদ্রে পড়ে গেলে এক মুহূর্ত দেরি না করে তাঁকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেন রাহুল। কিন্তু সেই সময় আচমকাই জোয়ারের স্রোত বেড়ে যায়। প্রবল স্রোতের টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যান তিনি। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার করে তাঁকে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এক সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন।এই বীরত্ব গাথাই এখন রাহুলকে ঘিরে প্রধান আলোচ্য।সোমবার তমলুক মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পর তাঁর মরদেহ কলকাতার বিজয়গড়ের বাড়িতে আনা হয়। সেখানেই শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য উপচে পড়ে ভিড়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারিকেড এবং কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে কলকাতা পুলিশ।অভিনেতার শেষযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক বিশিষ্ট মুখ।আবীর চট্টোপাধ্যায় তাঁর বাবা ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী, মিঠু চক্রবর্তী, তাঁদের পুত্র গৌরব চক্রবর্তী, অভিনেত্রী ঋদ্ধিমা ঘোষ সহ আরও অনেকে। শোকস্তব্ধ পরিবেশে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুদীপ্তা চক্রবর্তী। শেষযাত্রার ভিড় সামলাতে দেখা যায় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কেও।রাহুলের শববাহী গাড়ি বিজয়গড় থেকে পদযাত্রার মাধ্যমে কেওড়াতলার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে পথে সাধারণ মানুষ ভিড় জমিয়ে প্রিয় অভিনেতাকে শেষবারের মতো দেখার চেষ্টা করেন। বামপন্থী সমর্থকদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘জাগো জাগো সর্বহারা’।রাজনৈতিক আবহেও ধরা পড়ে তাঁর প্রতি মানুষের আবেগ। পদযাত্রার নেতৃত্ব দেন দীপ্সিতা ধর।লাল সেলামের মধ্যে দিয়েই জানানো হয় শেষ বিদায়।শেষকৃত্যের সময় কেওড়াতলা মহাশ্মশানেও উপচে পড়ে ভিড়। উপস্থিত ছিলেন আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরাও। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে শেষযাত্রা যেন এক আবেগঘন জনসমাবেশে পরিণত হয়।রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আকস্মিক মৃত্যু শুধু একটি প্রতিভার অবসান নয়, বরং মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্তও হয়ে থাকবে। সহ অভিনেত্রীকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখার এই ঘটনা তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে।একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও। তাঁর এই আত্মত্যাগ দীর্ঘদিন মনে রাখবে টলিউড ও বাংলার মানুষ।





