গ্যাসে কালোবাজারি, কাটোয়ায় আকাশছোঁয়া দাম, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া শহরে রান্নার গ্যাসকে কেন্দ্র করে চরম বিশৃঙ্খলা ও ক্ষোভের ছবি সামনে এল সোমবার। অভিযোগ, পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডোমেস্টিক ও বাণিজ্যিক গ্যাস ব্ল্যাক মার্কেটে বিক্রি করা হচ্ছে চড়া দামে। ফলে সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী,সবাই পড়েছেন চরম সমস্যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকারি নির্ধারিত প্রায় ৯৫০ টাকার ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডার কাটোয়ায় বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ টাকায়। একইভাবে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকার মধ্যে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ।কাটোয়ার বাসিন্দা নয়ন দাসের অভিযোগ,তাঁর গ্যাস ফুরিয়ে গেছে এক মাসেরও বেশি সময় আগে। বারবার ডিলারের কাছে গিয়ে শুধুই আশ্বাস পেয়েছেন।এই আসছে, চলে যাবে। কিন্তু ৩০ মার্চ পর্যন্ত গ্যাস পাননি তিনি। শেষমেশ বাধ্য হয়ে ২,৫০০ টাকা দিয়ে ব্ল্যাকে গ্যাস কিনতে হয়েছে।” তাঁর মতো আরও বহু গ্রাহক একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।শুধু গৃহস্থালি নয়, এই সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে ছোট ব্যবসায়ীদের ওপরও। মিষ্টির দোকান, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট চালাতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা বাধ্য হচ্ছেন অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে। অনেকেই জানিয়েছেন, দোকান চালু রাখতে না পারলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হত, তাই বাধ্য হয়ে ৩,৫০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা দিয়ে গ্যাস সংগ্রহ করতে হচ্ছে।এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। কাটোয়া শহরের বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে প্রতিটি মিষ্টির দাম গড়ে ২ টাকা করে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।এদিকে, এই গুরুতর অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইন্ডিয়ান গ্যাস ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। যদিও ঘটনাস্থলে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, তবুও কেন এই কালোবাজারি রোখা যাচ্ছে না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, স্থানীয় সূত্র দাবি করছে,গ্যাসের কোনও প্রকৃত সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম অভাব তৈরি করা হচ্ছে, যাতে ব্ল্যাক মার্কেটে বাড়তি দামে বিক্রি করা যায়।এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে। না হলে এই কালোবাজারি আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা।এখন দেখার, প্রশাসন কতটা দ্রুত পদক্ষেপ করে কাটোয়ার এই গ্যাস সংকট ও কালোবাজারি রুখতে পারে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *