নীল বাতি বিতর্কে চাপে শত্রুঘ্ন, জামুরিয়ায় নির্বাচনী আচরণ বিধি নিয়ে প্রশ্ন

পশ্চিমবঙ্গের ভোটের উত্তাপে নতুন করে জুড়ল ‘নীল বাতি’ বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা-কে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনাকেন্দ্র পশ্চিম বর্ধমানের জামুরিয়া বিধানসভা এলাকা।তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিংয়ের সমর্থনে একটি কর্মীসভায় যোগ দিতে গিয়ে বিতর্কে জড়ান সিনহা। অভিযোগ, প্রচারের সময় তিনি যে গাড়িতে আসেন, তাতে নীল বাতি লাগানো ছিল। শুধু তাই নয়, গাড়ির সামনে ছিল অশোক স্তম্ভের প্রতীকও। নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ থাকার সময় এই ধরনের প্রতীক ও নীল বাতির ব্যবহারকে ঘিরেই উঠেছে প্রশ্ন।ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রথমে বিষয়টিকে ‘ছোটখাটো ঘটনা’ বলে উড়িয়ে দেন সিনহা। পরে অবশ্য তিনি তাঁর সহকারীর মাধ্যমে গাড়ি থেকে নীল বাতি খুলে ফেলার নির্দেশ দেন বলে জানা যায়। যদিও ততক্ষণে বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে বড় আকার ধারণ করেছে।বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ তুলে বলেন, “নির্বাচনের সময় একজন সাংসদ কীভাবে নীল বাতিযুক্ত গাড়ি ব্যবহার করে প্রচার করতে পারেন? এটা স্পষ্টতই আচরণবিধির লঙ্ঘন।” তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের উচিত এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া।এই ঘটনাকে ঘিরে শিল্পাঞ্চল জুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও, দলের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর সরকারি প্রতীক, বিশেষ সুবিধা বা প্রোটোকলের অপব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ফলে এই অভিযোগ কতটা গুরুতর, তা খতিয়ে দেখতে পারে নির্বাচন কমিশন।ভোটের মুখে এই বিতর্ক যে জামুরিয়া কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগে কী পদক্ষেপ নেয় এবং তৃণমূল কংগ্রেস কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *