যত বদলই হোক, বাংলার রায় মমতার পক্ষেই’,কমিশন বিজেপি আঁতাঁতের অভিযোগে সরব অখিলেশ যাদব
পশ্চিমবঙ্গে ভোট ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক বদলি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বারবার প্রশ্ন তুলেছে নিরপেক্ষতা নিয়ে। এই প্রেক্ষাপটে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ালেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলপশ যাদব।লখনউয়ে দলীয় কর্মসূচি থেকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অখিলেশ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যতই আমলা বা পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করা হোক না কেন, বাংলার জনমত শেষ পর্যন্ত মমতার পক্ষেই যাবে। তাঁর কথায়,এই লড়াইটা তাঁকে একাই লড়তে হচ্ছে। কমিশন যদি বিজেপির সঙ্গে সমন্বয় করে আধিকারিক বদল করেও থাকে, তবুও মানুষ তাদের রায় দিয়ে দেবে।ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বদল এনেছে কমিশন। মুখ্যসচিব, পুলিশপ্রধান থেকে শুরু করে জেলা স্তরের আধিকারিকদের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই ঘটনাকেই ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করে তৃণমূলের অভিযোগ, এর নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য। সেই অভিযোগকেই কার্যত সমর্থন করলেন অখিলেশ।তিনি বলেন, অতীতে উত্তরপ্রদেশে ভোটের সময় এত ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদলের নজির খুব কমই দেখা গিয়েছে। “আপনারা খুঁজে দেখুন, উত্তরপ্রদেশে নির্বাচন চলাকালীন এ ভাবে একের পর এক আধিকারিক সরানো হয়েছিল কি না,” প্রশ্ন তোলেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি।যা তাঁর মন্তব্যে নতুন রাজনৈতিক তাৎপর্য যোগ করেছে।অখিলেশের আরও দাবি, নির্বাচনের আগেই ‘সেটিং’ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। কোন আধিকারিক কোথায় থাকবেন, তা আগেভাগেই ঠিক করে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর। একই সঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি বিপুল সংখ্যক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে— কী ভাবে ভোট পরিচালনা করতে হবে, বুথ ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে অর্থ ব্যবস্থাপনা। সব কিছুতেই জোর দেওয়া হচ্ছে।এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকেও বিরোধী জোটের নেতাদের সমর্থন তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যতম শরিক হিসেবে অখিলেশের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধরা হচ্ছে।এর আগে এসআইআর ইস্যুতেও মমতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কলকাতা সফরে এসে তিনি বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গকে লক্ষ্য করেই বিশেষভাবে এই ধরনের পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এমনকি বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের মধ্যে মমতাকেই অন্যতম মুখ বলে উল্লেখ করেছিলেন অখিলেশ।অন্যদিকে, তৃণমূলনেত্রীও শুরু থেকেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সরব। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির সঙ্গে আঁতাঁত করেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনিক স্তরে ধারাবাহিক বদল সেই পরিকল্পনারই অংশ বলে দাবি তাঁর।ভোট যত এগোচ্ছে, ততই এই ইস্যুতে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হচ্ছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে বিরোধী জোটের সমর্থন।সব মিলিয়ে বাংলার নির্বাচনী লড়াই আরও তপ্ত হয়ে উঠছে। এখন দেখার, এই বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে এবং ‘ঐতিহাসিক জনাদেশ’-এর দাবির বাস্তব রূপ কী দাঁড়ায়।





