বারাসাতের মঞ্চে মমতার ‘বদলার বার্তা’, বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ

বারাসাতে নির্বাচনী প্রচারে এসে কর্মীদের উদ্দেশে সরাসরি ‘বদলা নেওয়ার’ বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন ভোটকে সামনে রেখে তাঁর এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় নেতারা বাংলায় এসে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু সারা বছর তাঁদের খোঁজ মেলে না। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “ভোটের আগে কোকিলের মতো কুহু কুহু করতে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ রা বাংলায় আসেন। তারপর আর দেখা যায় না।”প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটের সময় কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, খরা, বন্যা বা করোনা পরিস্থিতির সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিজেপি নেতৃত্বকে দেখা যায়নি। বরং ভোটের আগে ‘মিথ্যার ঝুলি’ নিয়ে তারা হাজির হয় বলে দাবি করেন তৃণমূল নেত্রী।চাকরি প্রসঙ্গেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন মমতা। তিনি বলেন, “২ কোটি বেকারের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল? ডবল ইঞ্জিন সরকার উন্নয়নের কথা বলেছিল, সেই উন্নয়নই বা কোথায়?” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, কর্মসংস্থান ইস্যুকেই তিনি বড় রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।এদিনের সভায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের আরও সংগঠিত হওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। ‘বদলা’ শব্দটি ব্যবহার করে তিনি মূলত ভোটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার কথাই বোঝাতে চেয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। বিরোধীদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।রাজনৈতিক মহলের মতে, বারাসাতের এই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন যে, এবারের নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র হবে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের ফারাককে সামনে এনে জনমত গঠনের কৌশল নিয়েছে তৃণমূল।অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও এই বক্তব্যের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে।সব মিলিয়ে, বারাসাতের সভা থেকে মমতার আক্রমণাত্মক বার্তা স্পষ্ট করে দিল।ভোটের লড়াইয়ে কোনও জমি ছাড়তে রাজি নয় তৃণমূল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *