ভোটের আগে ইডির সাঁড়াশি অভিযান, রেশন দুর্নীতিতে ১২ জায়গায় তল্লাশি ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শুক্রবার সকাল থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলায় বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, বনগাঁ ও হাওড়া-সহ মোট ১২টি জায়গায় একযোগে এই ‘ম্যারাথন’ তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে খবর।তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, রেশন দুর্নীতির জাল কতটা বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতেই এই অভিযান। বিশেষ করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য। সূত্রের দাবি, এই মামলায় বসন্ত কুমার শরাফ নামে এক ব্যবসায়ীর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, তাঁর একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রেশন সামগ্রী পাচার করা হত।ইডির অনুমান, সরকারি রেশন হিসেবে বরাদ্দ চাল-গম সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছনোর আগেই তা অন্য চ্যানেলে সরিয়ে দেওয়া হত। পরে সেই সামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা রোজগার করা হত। এই অবৈধ লেনদেনের টাকার ভাগ কারা পেত এবং এর পেছনে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না, তা জানতেই নথি খতিয়ে দেখা ও জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।এদিন উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর আমলাপাড়া এলাকায় ছয়ঘড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য তথা পরিবহণ ব্যবসায়ী পরিতোষ বিশ্বাসের বাড়িতেও হানা দেয় ইডি। সকাল আটটা থেকে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি জপুর এলাকায় আরও এক ব্যবসায়ীর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, তল্লাশির সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।ভোটের মুখে এই তল্লাশি অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে রেশন ব্যবস্থায় বড়সড় অনিয়ম হয়েছে। অন্যদিকে শাসক দলের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ইডিকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, রেশন দুর্নীতি তদন্তে ইডির এই সাঁড়াশি অভিযান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। আগামী দিনে এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং আদৌ কোনও বড় নাম সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *