হিলি মোড় থেকে শক্তিপ্রদর্শন, বালুরঘাটে বিজেপির মেগা মিছিল, কটাক্ষে তুঙ্গে সুকান্ত

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরেই জোরকদমে শক্তিপ্রদর্শনে নামল বিজেপি। এদিন দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে হিলি মোড় থেকে শুরু হয়ে চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে বিশাল মিছিল পদ্ম শিবিরের। কয়েক হাজার কর্মী সমর্থকের উপস্থিতিতে এই মিছিল কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়।মিছিলের জেরে প্রায় ঘণ্টাখানেক শহরের যান চলাচলও স্তব্ধ হয়ে পড়ে।এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর উপস্থিতিতে মিছিল ঘিরে কর্মী সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন বালুরঘাটের প্রার্থী বিদ্যুৎ কুমার রায়, তপনের প্রার্থী বুধরাই টুডু, কুমারগঞ্জের প্রার্থী শুভেন্দু সরকার এবং গঙ্গারামপুরের প্রার্থী সত্যেন্দ্রনাথ রায়ের সমর্থনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।হিলি মোড় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি গোটা শহর পরিক্রমা করে বালুরঘাট থানা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। ঢাক, শঙ্খ, করতাল, ব্যান্ড পার্টি এবং ডিজের তালে তালে নেচে গেয়ে মিছিলে অংশ নেন কর্মী সমর্থকরা। শুধু দলীয় কর্মীরাই নন, সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য, যা রাজনৈতিক মহলে আলাদা করে নজর কেড়েছে।তবে এই বিশাল জমায়েতের প্রভাব পড়ে শহরের স্বাভাবিক জনজীবনে। মিছিল চলাকালীন রাস্তায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। বাস সহ একাধিক যানবাহন মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে।এদিনের মিছিল থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র কটাক্ষ করতেও শোনা যায় সুকান্ত মজুমদারকে। তিনি বলেন, গঙ্গারামপুরে ‘দুষ্টু প্রার্থী’র জন্য বুলডোজার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বালুরঘাটের পরিস্থিতি আলাদা বলে এখানে ডিজের ব্যবস্থাই রাখা হয়েছে।যার ইচ্ছে, নেচে নিতে পারেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।নির্বাচনের আগে এই ধরনের শক্তিপ্রদর্শন যে ভোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। বিজেপির এই মিছিলকে ঘিরে একদিকে যেমন কর্মীদের উৎসাহ তুঙ্গে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরও পাল্টা কৌশল সাজাতে ব্যস্ত। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বালুরঘাটের এই শক্তিপ্রদর্শন যে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াবে, তা স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *