ভোটের আগে কড়া বার্তা, কলকাতায় ভোরবেলা ইডির ঝটিকা অভিযান, নিশানায় ‘সোনা পাপ্পু’

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ওরফে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। বুধবার ভোর থেকেই কলকাতার একাধিক এলাকায় একযোগে অভিযান শুরু করে ইডি আধিকারিকরা। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, শহরের অন্তত ছ’টি জায়গায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযানের তালিকায় রয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার কসবা এলাকার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার, যিনি ‘সোনা পাপ্পু’ নামেই পরিচিত। তাঁর বাসভবনেও তল্লাশি চলছে বলে সূত্রের খবর।ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে আগেই একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। তোলাবাজি, ভয় দেখানো, আর্থিক লেনদেনে অনিয়ম করা সহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট পাঁচটি এফআইআর নথিভুক্ত রয়েছে। এই মামলাগুলিকে ভিত্তি করেই গত কয়েকদিন ধরে তদন্ত চালাচ্ছিল ইডি। সেই অনুসন্ধানের সূত্র ধরেই আজকের এই হানা বলে মনে করা হচ্ছে।শুধু কসবার বাসভবন নয়, বালিগঞ্জের একটি বেসরকারি সংস্থার অফিসেও পৌঁছয় ইডির দল। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অনুমান, অভিযুক্তের সঙ্গে এই সংস্থার আর্থিক যোগ থাকতে পারে। তাই সংস্থার নথি খতিয়ে দেখে লেনদেনের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা চলছে।সূত্রের খবর, এদিনের অভিযানে একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস, নথিপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেগুলি বাজেয়াপ্তও করা হতে পারে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদও চলছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন বেআইনি আর্থিক লেনদেন বা ‘প্রসিডস অফ ক্রাইম’-এর সম্ভাবনার দিকে।নির্বাচনের মুখে এই অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও ইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে তদন্তকারী সংস্থার এই তৎপরতা যে ভোটের আগে বড় বার্তা দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য। বিরোধীদের একাংশ ইতিমধ্যেই এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে। অন্যদিকে শাসক শিবিরের বক্তব্য, আইনের পথে তদন্ত চলতেই পারে এবং দোষী প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।এদিকে স্থানীয় এলাকায় এদিন সকাল থেকেই ইডির উপস্থিতি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কসবা এলাকায় সোনা পাপ্পুর বাড়ির সামনে ভিড় জমায় কৌতূহলী মানুষজন। নিরাপত্তার স্বার্থে মোতায়েন করা হয় পুলিশ বাহিনীও।তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, এই অভিযানের জেরে আগামী দিনে আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। ইডি-র নজরে থাকা এই মামলাগুলির অগ্রগতি এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দু’দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *