শুটিংয়ে মৃত্যু ঘিরে তোলপাড়. রাহুলের জন্য দাবি,১ কোটি ক্ষতিপূরণ প্রযোজনা সংস্থাকে ব্ল্যাকলিস্টের ডাক
দিঘায় শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অভিনেতা রাহুলের মৃত্যু ঘিরে সরগরম গোটা চলচ্চিত্র মহল। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ প্রজেক্টের সেটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন(AICWA)। সংগঠনের তরফে রাহুলের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি তোলা হয়েছে।পাশাপাশি অভিযুক্ত প্রযোজনা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট চ্যানেলকে কালো তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।ঘটনাটি ঘটে দিঘার সমুদ্রতটে শুটিং চলাকালীন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সহ অভিনেত্রী শ্বেতা পা পিছলে জলে পড়ে গেলে তাঁকে বাঁচাতে এক মুহূর্ত দেরি না করে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন রাহুল। কিন্তু ঠিক সেই সময় আচমকা জোয়ারের স্রোত বেড়ে যায়। প্রবল ঢেউ ও স্রোতের টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যান তিনি। দ্রুত উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।এই ঘটনার পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। AICWA-র অভিযোগ, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে শুটিং চালানোর কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের বিরুদ্ধে ‘খুনের’ অভিযোগে এফআইআর দায়ের করতে হবে।শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কঠোর পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের বক্তব্য, যে প্রযোজনা সংস্থা নিরাপত্তা বিধি মানে না, তাদের সঙ্গে কাজ করা বন্ধ করা উচিত এবং ইন্ডাস্ট্রি স্তরে ব্ল্যাকলিস্ট করা প্রয়োজন।এদিকে, এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। উভয় নেতার কাছেই পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে AICWA।রাহুলের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিপাড়ায়। সহকর্মী থেকে অনুরাগী সকলেই তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপের কথা স্মরণ করছেন। তবে সেই সঙ্গে উঠছে একটাই প্রশ্ন শুটিং সেটে নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত? এই ঘটনার পর কি বদলাবে ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা সংস্কৃতি, নাকি আবারও কোনও দুর্ঘটনার অপেক্ষা?





