ফর্ম ৬ ঘিরে টানটান উত্তেজনা, সিইও দফতর চত্বরে কড়া নিরাপত্তা, বিধিনিষেধে মোড়া বিবাদি বাগ

ফর্ম ৬ জমা ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমেই তীব্র হওয়ায় কলকাতার প্রশাসনিক কেন্দ্র বিবাদি বাগে সতর্কতার মাত্রা বাড়াল পুলিশ। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরকে ঘিরে জারি করা হল কড়া নিরাপত্তা বলয়। সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় বিএনএসএস এর ১৬৩ ধারা কার্যকর রেখে তার পরিসরও বাড়ানো হয়েছে।লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সিইও দফতরের সামনে বড়সড় বিক্ষোভ বা হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ভোটের আগে এই পরিস্থিতি জনশৃঙ্খলার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে প্রশাসন। সেই কারণেই আগের নির্দেশিকার সীমা সংশোধন করে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, স্ট্র্যান্ড রোডের কয়লাঘাটা ক্রসিং থেকে কিরণশঙ্কর রায় রোড ক্রসিং পর্যন্ত সম্পূর্ণ অংশসহ রাস্তার দু’পাশের ফুটপাথ বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে। আগে এই অংশের একটি অংশ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা এলাকাকে সুরক্ষার বলয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে।পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের স্বাক্ষরিত সংশোধিত নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ২৩ মার্চ জারি হওয়া আগের নির্দেশিকার বাকি শর্তগুলি অপরিবর্তিত থাকবে। অর্থাৎ, জমায়েত, মিছিল বা কোনও ধরনের বিক্ষোভ কর্মসূচির উপর কার্যত নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকছে।গত কয়েক দিন ধরেই সিইও দফতরের সামনে উত্তেজনা বাড়ছিল। ফর্ম ৬ জমা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজনৈতিক কর্মীদের বিক্ষোভ, ধস্তাধস্তি এবং সংঘর্ষের আশঙ্কায় সোমবার ও মঙ্গলবার দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। যদিও বড় ধরনের হিংসার ঘটনা এখনও পর্যন্ত ঘটেনি, তবুও পরিস্থিতি যে অস্থির, তা স্বীকার করছে প্রশাসন।ফর্ম ৬ মূলত নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। এই ফর্ম জমা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। এক পক্ষের অভিযোগ, ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা চলছে, অন্য পক্ষের দাবি, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হচ্ছে।এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য,সিইও দফতরের কাজ যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে এবং ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। সেই কারণেই আগাম সতর্কতা হিসেবে এই কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হতে পারে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে অযথা ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।ভোটের মুখে এই উত্তেজনা কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার। প্রশাসন অবশ্য স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।আইন নিজের পথে চলবে, কোনওভাবেই বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *