চাকরি না রাজনীতি? আইনি জটিলতায় আটকে ‘সোনার মেয়ে’ স্বপ্না বর্মনের ভোট লড়াই
এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলেট হিসেবে যাঁকে নিয়ে একসময় গর্ব করেছিল দেশ, সেই স্বপ্না বর্মন এবার ভোটের ময়দানে নামার আগেই আইনি জটিলতায় আটকে। রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন। আদৌ কি তিনি নির্বাচনে লড়তে পারবেন?সমস্যার মূলেই রয়েছে তাঁর সরকারি চাকরি। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনে কর্মরত স্বপ্না মাসখানেক আগে ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, সেই সময়েই তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, চাকরিরত অবস্থায় কোনও কর্মী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন না বা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারেন না। সেই অভিযোগেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ।এই পরিস্থিতিতে নিয়ম মেনে গত ১৬ মার্চ পদত্যাগপত্র জমা দেন স্বপ্না। কিন্তু রেল তা গ্রহণ করেনি। কারণ, তার আগেই ৯ মার্চ তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ জারি হয়েছিল। ফলে তাঁর ইস্তফা কার্যকর হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। আর সেই কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।মামলাটি এখন বিচারাধীন কলকাতা হাই কোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে। গত মঙ্গলবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের বেঞ্চে শুনানিতে রেলের তরফে জানানো হয়, স্বপ্না যদি লিখিতভাবে নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং অবসরকালীন কোনও সুবিধা যেমন পেনশন গ্রহণ করবেন না বলে মুচলেকা দেন, তবেই তাঁর পদত্যাগপত্র নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।সূত্রের খবর, স্বপ্না ইতিমধ্যেই সেই মুচলেকা জমা করেছেন। তবে রেল কর্তৃপক্ষ তাঁর চিঠির ভাষা বা বয়ানে সন্তুষ্ট নয়। বুধবার আদালতে সেই বিষয়টি তুলে ধরা হলে বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আদালতের আদেশ অনুযায়ী নতুন করে সঠিক বয়ানে চিঠি জমা দিতে হবে।স্বপ্নার আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই নতুন করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।ইমেলের পাশাপাশি হার্ড কপিও রেলের আলিপুরদুয়ার দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন রেলের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সব পক্ষ।এই আইনি জটিলতার মাঝেই ব্যক্তিগত জীবনে বড় ধাক্কা এসেছে স্বপ্নার। সদ্য পিতৃহারা হওয়ায় মানসিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। গত কয়েক দিনে তাঁকে নির্বাচনী প্রচারেও দেখা যায়নি, যা রাজনৈতিক মহলেও নানা জল্পনা তৈরি করেছে।তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, অন্দরমহলে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনের আগে সমস্যার সমাধান হবে বলেই আশাবাদী তারা। তবে যদি তা না হয়, সেক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী নিয়ে দলকে ভাবতে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে।সব মিলিয়ে, ট্র্যাকের হেপ্টাথলনে সাতটি ইভেন্টে লড়াই জিতে ইতিহাস গড়া স্বপ্না বর্মণ এবার এক ভিন্ন ধরনের লড়াইয়ের মুখে।আইন, প্রশাসন এবং রাজনীতির জটিল সমীকরণের মধ্যে তাঁর ভোটযুদ্ধ আদৌ শুরু হবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।





