তরুণ ধোনিই বেশি আকর্ষণীয়”,আইপিএলের আগে সৌরভ গাঙ্গুলির খোলামেলা স্বীকারোক্তি

আইপিএল শুরুর আগে এম এস ধীনিকে ঘিরে প্রশংসার ঝড়।তবে ‘যুবা মাহি’র সাহস ও চরিত্রই নাকি বেশি টানে সৌরভকে?আইপিএল ২০২৬ শুরুর মুখে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এৃ এস ধোনী। ২৮ মার্চ থেকে শুরু হতে চলা এই মরশুমে অভিজ্ঞ ধোনির পারফরম্যান্স নিয়ে যেমন আগ্রহ তুঙ্গে, তেমনই তাঁকে ঘিরে প্রশংসার সুর শোনা যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সফল অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির মুখে।এক সাক্ষাৎকারে সৌরভ স্পষ্ট জানিয়ে দেন অভিজ্ঞ ধোনির সাফল্য যতই বড় হোক না কেন, তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের তালিকায় এগিয়ে ‘তরুণ ধোনি’। এই মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক এবং আলোচনা।সৌরভ বলেন, ধোনির নেতৃত্বে ভারতীয় দল যে উচ্চতায় পৌঁচেছে, তা অনস্বীকার্য। ২০০৭ সালের টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি।এই তিনটি আইসিসি শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছেন ধোনি। তুলনা টানতে গিয়ে সৌরভ অকপটে স্বীকার করেন, “ধোনি বিশ্বকাপ জিতেছে, আমি রানার্স আপ হয়েছি। ওর সাফল্য অনেক বড়।” এখানেই থেমে থাকেননি প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর মতে, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধোনির প্রভাব এতটাই গভীর যে তাঁকে “সাদা বলের ক্রিকেটের জনক” বললেও অত্যুক্তি হবে না। সৌরভের এই মন্তব্যে ধোনির কৌশলগত মস্তিষ্ক এবং ম্যাচ ফিনিশ করার দক্ষতারই প্রতিফলন দেখা যায়।তবে এত প্রশংসার মাঝেও সৌরভের পছন্দের জায়গায় রয়েছে একেবারে অন্য এক ধোনি।যে ধোনি নির্ভীক, আগ্রাসী এবং একেবারে অপ্রচলিত। তাঁর কথায়, “অভিজ্ঞ ধোনি নিঃসন্দেহে অসাধারণ, কিন্তু তরুণ ধোনির মধ্যে যে সাহস, স্বাধীনতা আর অপ্রত্যাশিত কিছু করার মানসিকতা ছিল, সেটাই আমাকে বেশি আকৃষ্ট করত।”ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যারিয়ারের শুরুতে ধোনির ব্যাটিং ছিল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। লম্বা চুল, নির্ভীক শট নির্বাচন এবং চাপের মুহূর্তে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা।সব মিলিয়ে ‘ইয়াং ধোনি’ ছিল একেবারে আলাদা চরিত্র। পরবর্তীতে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর খেলার ধরন হয় আরও হিসেবি ও পরিণত।সৌরভ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।ধোনির উত্থানের গল্প। ঝাড়খণ্ডের মতো তুলনামূলকভাবে ছোট রাজ্য থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আধিপত্য বিস্তার করা সহজ ছিল না। “ধোনির আগে ওই অঞ্চল থেকে খুব বেশি ক্রিকেটার উঠে আসেনি। ওর সাফল্য নতুন প্রজন্মকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছে।ছোট জায়গা থেকেও বড় স্বপ্ন দেখা যায়,” বলেন তিনি।আইপিএল ২০২৬-এ ধোনি আবার মাঠে নামবেন চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন অনেক আগেই, তবুও এই লিগেই তাঁর উপস্থিতি এখনও সমান প্রভাবশালী। অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং ম্যাচ পড়ার ক্ষমতায় এখনও তিনি দলের অন্যতম ভরসা।সব মিলিয়ে,সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মন্তব্য শুধু ধোনির সাফল্যের প্রশংসা নয়, বরং তাঁর বিবর্তনের গল্পও তুলে ধরে।এক নির্ভীক তরুণ থেকে পরিণত কিংবদন্তি হয়ে ওঠার পথচলা। আর সেই পথচলার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায় হিসেবে ‘তরুণ ধোনি’-কেই এগিয়ে রাখলেন প্রাক্তন অধিনায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *