সাঁকরাইলে রাম নবমীর শোভাযাত্রা, কড়া নিরাপত্তায় অস্ত্রসহ অংশগ্রহণ ঘিরে চর্চা

প্রতি বছরের মতো এ বছরও রাম নবমী উপলক্ষে হাওড়ার সাঁকরাইল এলাকায় অনুষ্ঠিত হল বৃহৎ শোভাযাত্রা। রাজগঞ্জ থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল মানিকপুরের একটি মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পূজা অর্চনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠান ও।এই কর্মসূচি আয়োজন করে বিবেকানন্দ সেবা সঙ্ঘ ও সিংহবাহিনী। সকাল থেকেই ভক্তদের ঢল নামে শোভাযাত্রায়। গেরুয়া পতাকা, ধর্মীয় সঙ্গীত এবং শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।আয়োজকদের দাবি, এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়,বরং ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।তবে এবারের শোভাযাত্রার অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল অংশগ্রহণকারীদের একাংশের হাতে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র। তলোয়ার, লাঠি সহ ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র নিয়ে বহু মানুষকে মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে উদ্যোক্তারা জানান, হিন্দু ধর্মীয় পুরাণ অনুযায়ী দেবদেবীরা অশুভ শক্তির বিনাশে অস্ত্র ধারণ করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেই এই প্রতীকী অস্ত্র বহন করা হয়। তাঁদের কথায়, “অসুর ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিতেই এই প্রতীকী উপস্থিতি।”একই সঙ্গে উদ্যোক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সমাজেও বিভিন্ন ধরনের ‘অশুভ শক্তি’ রয়েছে, এবং মানুষের সুরক্ষার বার্তা দিতেই এই আয়োজনের তাৎপর্য রয়েছে। যদিও এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে বিতর্কেরও অবকাশ তৈরি হয়েছে।অন্য দিকে, প্রশাসন গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখে। শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড, নজরদারি ক্যামেরা এবং রুট নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।পুলিশ সূত্রে খবর, আগে থেকেই গোটা রুট চিহ্নিত করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। শোভাযাত্রার সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা কম হয়।সব মিলিয়ে, ধর্মীয় আবেগ, ঐতিহ্য এবং নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় সাঁকরাইলের রাম নবমীর এই শোভাযাত্রা। তবে অস্ত্রসহ অংশগ্রহণের বিষয়টি ঘিরে আগামী দিনেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *