শিকলে বাঁধা ক্ষোভ, রাজপথে বিএলওদের অভিনব প্রতিবাদ
এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে বুথ লেভেল অফিসার(বিএলও)রা। সেই ক্ষোভই এবার অভিনব প্রতিবাদের মাধ্যমে ফুটে উঠল কলকাতার রাজপথে। হাতে, গলায় এবং পায়ে শিকল বেঁধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানালেন তাঁরা।শুক্রবার শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু বিএলও একত্রিত হয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার নাম করে তাঁদের উপর অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিপুল সংখ্যক কাজ শেষ করতে বলা হচ্ছে, যা বাস্তবে সম্ভব নয় বলেই অভিযোগ তাদের।প্রতিবাদী বিএলওদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মীদের পর্যাপ্ত সময়, পরিকাঠামো বা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই, নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি, পুরনো নাম সংশোধন বা বাদ দেওয়ার মতো একাধিক দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে তাঁদের। এতে কর্মীদের উপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়ছে।এই পরিস্থিতির প্রতিবাদেই তাঁরা শিকল বেঁধে প্রতীকীভাবে জানান দিতে চান যে, এই দায়িত্ব তাঁদের যেন ‘শৃঙ্খলিত’ করে ফেলেছে। এক প্রতিবাদী বিএলও বলেন, “আমরা নির্বাচন কমিশনের কাজ করি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু রাখতে চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের উপর এমনভাবে কাজ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে যেন আমরা বাধ্য শ্রমিক।” প্রতিবাদ মিছিল চলাকালীন তাঁদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল “এস আই আর বন্ধ করতে হবে”, “বিএলওদের উপর অমানবিক চাপ চলবে না”, “সময়সীমা বাড়াতে হবে”।প্রতিবাদ কারীদের আরও দাবি, কাজের পরিমাণ অনুযায়ী সম্মানিক বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হোক।তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রেই মাঠপর্যায়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, কিন্তু সেসব বিষয়ে প্রশাসনের তরফে যথাযথ সহায়তা মিলছে না।প্রতীকী প্রতিবাদের মাধ্যমে বিএলওরা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান বলেও জানান। তাঁদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বুথ লেভেল অফিসারদের কাজের গুরুত্ব অনেক, কিন্তু সেই অনুযায়ী সম্মান বা সহায়তা তাঁরা পাচ্ছেন না।এই অভিনব প্রতিবাদ শহরের রাজপথে নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষেরও। তবে প্রতিবাদী বিএলওদের হুঁশিয়ারি, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারেন তাঁরা।





