মধ্যরাতের রদবদলের পর এবার নয়া মোড়,ভিন্রাজ্যে পোস্টিং মীনার,এখনও অনিশ্চিত নন্দিনীর ভবিষ্যৎ
বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার রাতেই প্রশাসনিক শীর্ষস্তরে নজিরবিহীন রদবদলের পর এ বার নতুন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। অপসারিত স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে ভিন্রাজ্যে ভোট পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, তাঁকে তামিলনাড়ুর একটি বিধানসভা কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।রবিবার ভোট ঘোষণা হয়েছে।তার ঠিক কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যরাতে স্বরাষ্ট্রসচিব পদ থেকে মীনাকে সরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন। একইসঙ্গে মুখ্যসচিব পদ থেকেও অপসারিত করা হয় নন্দিনী চক্রবর্তীকে। তাঁর পরিবর্তে নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে। স্বরাষ্ট্রসচিব পদে আনা হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে।এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই ঘটনাকে “মধ্যরাতে গুপ্ত তাণ্ডব” বলে কটাক্ষ করে প্রশ্ন তোলেন, “রাত সাড়ে ১২টায় ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সরানো হল! এটা মগের মুলুক?” তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের নামে প্রশাসনে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ করছে কমিশন।শুধু প্রশাসনিক স্তরেই নয়, সোমবার পুলিশ নেতৃত্বেও বড় রদবদল করে কমিশন। রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং এডিজি আইনশৃঙ্খলা পদে নতুন আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন।এদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই মন্তব্য করেছিলেন, শুধু সরালেই হবে না, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের রাজ্যের বাইরে পাঠানো উচিত। ঘটনা চক্রে, তার পরের দিনই মীনাকে অন্য রাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত সামনে এল।যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশন আগেই সম্ভাব্য ভোট পর্যবেক্ষকদের একটি তালিকা তৈরি করেছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে ১৫ জন আইএএস এবং ১০ জন আইপিএস আধিকারিককে দিল্লিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেই তালিকায় মীনার নাম ছিল। যদিও বিকল্প নাম পাঠানোর প্রস্তাব রাজ্যের তরফে দেওয়া হলেও তা খারিজ করে কমিশন। ফলে স্পষ্ট, মীনাকে অন্য রাজ্যে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই পরিকল্পিত ছিল।অন্যদিকে, অপসারিত মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর ক্ষেত্রে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত মেলেনি। পর্যবেক্ষক তালিকায় তাঁর নাম না থাকায় তাঁকে ভিন্রাজ্যে পাঠানো হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি কমিশন।সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক দ্রুত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র করছে। নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী সংঘাত যেমন বাড়ছে, তেমনই আমলাতন্ত্রের ভূমিকাও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।





