ভোটের আগে প্রশাসনিক বড় রদবদল, ৫ জেলায় নতুন ডিআইজি,কড়া বার্তা নির্বাচন কমিশনের
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ফের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটল নির্বাচন কমিশন। আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও নিরপেক্ষ এবং কার্যকর করতে রাজ্যের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জে ডিআইজি পদে বদলি করা হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপকে ভোটের আগে প্রশাসনিক কড়াকড়িরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, রাঠোর অমিতকুমার ভারতকে রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদ রেঞ্জে নতুন ডিআইজি হচ্ছেন অজিত সিং যাদব। বর্ধমান রেঞ্জের দায়িত্বে আসছেন শ্রীহরি পান্ডে। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জে নিয়োগ করা হয়েছে কঙ্কর প্রসাদ বারুইকে।একই সঙ্গে জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অঞ্জলি সিং।কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ১৯ মার্চ সকাল ১১টার মধ্যে নিজ নিজ দায়িত্ব গ্রহণ করে যোগদানের রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে কোনও শিথিলতা রাখা হচ্ছে না বলেই সূত্রের খবর।ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদল নতুন কিছু নয়। তবে এবার কমিশনের পদক্ষেপে গতি এবং কঠোরতা, দুটোই চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে যেসব জেলায় অতীতে ভোট সংক্রান্ত উত্তেজনা বা অভিযোগের নজির রয়েছে, সেসব এলাকায় অভিজ্ঞ আধিকারিকদের বসানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি। এতে ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট বার্তা রয়েছে।ভোট প্রক্রিয়ায় কোনওরকম পক্ষপাত বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। নির্বাচনী বিধি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই কমিশন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল করছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, এই ধরনের বদলি ভোটের আগে প্রশাসনের ওপর কমিশনের সরাসরি নজরদারির ইঙ্গিত দেয়। ফলে মাঠপর্যায়ে কর্মরত আধিকারিকদের কাজের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা,এই তিন ক্ষেত্রেই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে, ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদলের এই ধাপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কমিশনের এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন প্রশাসনিক যন্ত্রকে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই ভোট প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন ও নিরপেক্ষ রাখার লক্ষ্যে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে। কোনও আপস নয়।





