“বাংলাকে যে ভালোবাসে, বাংলা তাকে ভালোবাসে” নতুন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে উত্তরীয় পরিয়ে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার লোকভবন এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান কলকাতা হাই কোর্টএর প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন এদিন।নির্ধারিত সময় মেনেই সকাল সাড়ে ১১টায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’ এবং শেষে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ পরিবেশিত হয়। শপথ নেওয়ার পর নতুন রাজ্যপাল অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপালকে উত্তরীয় পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান।তারপরেই বলেন “বাংলাকে যে ভালোবাসে, বাংলা ও তাকে ভালোবাসে।”মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের উত্তরে নতুন রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি বলেন, “আমি জানি, বাংলা ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী। এই রাজ্যের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মানুষের আবেগ অত্যন্ত সমৃদ্ধ।”শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস আচমকা পদত্যাগের পর পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে। এতদিন তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বুধবারই তিনি কলকাতায় পৌঁছন এবং বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।তামিলনাড়ুতে রাজ্যপাল থাকাকালীন রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিল অনুমোদন এবং প্রশাসনিক বিষয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়েছিল। সেই সময় রাজ্যপালকে অপসারণের দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনও করেছিল শাসকদল ডিএমকে। সিভি আনন্দ বোসের হঠাৎ পদত্যাগ নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন রাজ্যপালের নাম ঘোষণার পর সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন যে, বোসের পদত্যাগের খবর তাঁকে “স্তম্ভিত ও গভীরভাবে উদ্বিগ্ন” করেছে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাজ্যের নির্বাচনকে ঘিরে কিছু রাজনৈতিক চাপ কাজ করতে পারে।নতুন রাজ্যপালের দায়িত্বগ্রহণকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে সৌজন্যের পরিবেশই লক্ষ্য করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী ও নতুন রাজ্যপালের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সৌহার্দ্যের বার্তা রাজনৈতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সময়সূচি থাকায় রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সম্পর্ক আগামী দিনে কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।





