নিষ্কৃতিমৃত্যুর সুপ্রিম অনুমতি হরীশ রানার কৃত্রিম যন্ত্র খুলতে বলল উচ্চ আদালত
হরীশ রানার নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট।হরিশের নিষ্কৃতিমৃত্যুর রায় দিতে গিয়ে বিচারপতির বেঞ্চ উইলিয়াম শেক্সপিয়রের হ্যামলেট এর ‘টু বি অর নট টু বি’ লাইনটি উল্লেখ করেন বিচারপতি। আদালত জানায়, ভারতে প্রত্যক্ষ মৃত্যু বা অ্যাকটিভ ইউথ্যানাশিয়া সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ।আদালত আরও জানায় দু’টি কারণের উপর ভিত্তি করে এই নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।প্রথম হল হরীশের চিকিৎসা ব্যবস্থার গতিপ্রকৃতি এবং দ্বিতীয়, রোগীর পক্ষে কোনটা ভাল, এই দিকগুলি বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয়। কিন্তু কে এই হরীশ রানা?কেনোই বা তাঁকে নিস্কৃতি মুত্যুর আদেশ দিল উচ্চ আদালত?পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঊজ্জ্বল ছাত্র ছিলেন হরীশ। ২০১৩ সালে হস্টেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে চোট পান হরীশ। তার পর থেকে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী তিনি।বছর বত্রিশের হরীশ গত ১৩ বছর ধরে শয্যাশায়ী।গত ১৩ বছর ধরেই নড়াচড়া করতে পারেন না দিল্লির এই যুবক।ডাক্তারি ভাষায় এই রোগকে কোয়াড্রিপ্লেজিয়া বলা হয়।এই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হরীশ।এই রোগে আক্রান্ত হয়ে শুধু শয্যাশায়ীই নয় বাইরের জগৎ বা নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কেও তাঁর কোনও চেতনা নেই। কেবল প্রাণটুকু আছে এই যা।প্রাথমিক এবং সেকেন্ডারি, দুই মেডিক্যাল বোর্ডই জানিয়ে দেয় এই পরিস্থিতিতে কৃত্রিম খাবার ও সকল চিকিৎসা ব্যবস্থা বন্ধ করাই এখন হরীশের জন্য মঙ্গলের।ডাক্তারি পদ্ধতিতে হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর বাবা মা।তবে প্রত্যক্ষ নয়, হরীশের জন্য পরোক্ষ মৃত্যুদানের আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রত্যক্ষ মৃত্যুদানের ক্ষেত্রে রোগীর কষ্ট লাঘবের জন্য চিকিৎসক ইচ্ছাকৃত ভাবে এমন কোনও ওষুধ দেন, যাতে দ্রুত মৃত্যু নেমে আসে। এ ক্ষেত্রে তা চাওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়ে, লাইফ সাপোর্ট তুলে নিয়ে মৃত্যুদানের কথা বলা হয়েছিল।দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে শীর্ষ আদালত হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যুতে সায় দিল। অবশেষে তাঁর বাবা মায়ের অনুরোধে জীবনদায়ী ব্যবস্থাকে খুলে নেওয়ার অনুমতি দিল উচ্চ আদালতে।দেশের মধ্যে এই প্রথম এতবড় সিদ্ধান্তে শিলমোহর পড়ল ঊচ্চ আদালতের।একই সঙ্গে নিষ্কৃতিমৃত্যু নিয়ে আইন আনতে কেন্দ্রকে বিষয়টি বিবেচনা করারও কথা বলেছে শীর্ষ আদালত।





