আইপিএস বিনীত গোয়েলকে ধমক মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের,বার্তা গাফিলতিতে রেয়াত নয়
রাজ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। সোমবার কলকাতায় প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বৈঠকের মধ্যেই রাজ্যের ডিজি আইনশৃঙ্খলা বিনীত গোয়েল-কে ধমক দিয়ে বসিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।সূত্রের খবর, সোমবার দুপুরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে ফুল বেঞ্চ বৈঠক করে দেশের নির্বাচন কমিশন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার সহ একাধিক উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।সূত্রের খবর বৈঠকে রাজ্যে চলা এসআইআর সংক্রান্ত কাজ এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। আলোচনা চলাকালীন এক পর্যায়ে নিজের বক্তব্য রাখতে উঠেছিলেন ডিজি আইনশৃঙ্খলা বিনীত গোয়েল। সেই সময় তাঁকে থামিয়ে দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার Gyanesh Kumar বলেন, “সব জানি, বসুন।” কমিশনের এই কড়া মন্তব্যে বৈঠকের পরিবেশ মুহূর্তেই গম্ভীর হয়ে ওঠে। শুধু বিনীত গোয়েলই নন, বৈঠকে উপস্থিত কয়েক জন জেলাশাসক এবং পুলিশ আধিকারিককেও ভর্ৎসনা করা হয় বলে কমিশন সূত্রে খবর। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট বার্তা দেন, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।বৈঠকে কমিশনের তরফে বলা হয়, বর্তমান সময়ে প্রশাসনিক প্রতিটি কাজেরই ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট থাকে। অর্থাৎ কোন আধিকারিক কখন কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বা কী কাজ করেছেন তার সমস্ত রেকর্ড এখন সহজেই পাওয়া যায়। ফলে দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগ উঠলে তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব।কমিশনের বার্তা ছিল স্পষ্ট। পদমর্যাদা দেখে নয়, কাজের নিরিখেই মূল্যায়ন করা হবে।জেলা শাসক হোন বা পুলিশ কমিশনার, দায়িত্ব পালনে ত্রুটি ধরা পড়লে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।বিশেষ করে রাজ্যে এসআইআর সংক্রান্ত কাজের অগ্রগতি এবং কিছু আধিকারিকের ভূমিকা নিয়ে কমিশনের অসন্তোষ রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে কমিশন এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে কোনও ধরনের ঢিলেমি বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না। নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ততই মাঠে নেমে প্রশাসনের কাজ খতিয়ে দেখবে কমিশন।ফলে আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে আরও কড়া নজরদারি এবং জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।





