পদোন্নতি বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক, বৈষম্যের অভিযোগে সরব এএইচএসডি
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের সাম্প্রতিক এক বিজ্ঞপ্তিকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস (MES)-এ পদোন্নতির সাক্ষাৎকার সংক্রান্ত ২ মার্চ ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তিকে “একপাক্ষিক ও বৈষম্যমূলক” বলে অভিযোগ তুলেছে পশ্চিমবঙ্গের অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টরস (এএইচএসডি)।সংগঠনের তরফে স্বাস্থ্য দফতরের প্রধান সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, ওই বিজ্ঞপ্তিতে শুধুমাত্র অপথ্যালমোলজি ও রেডিওলজি—এই দুই বিভাগের জন্যই পদোন্নতির সাক্ষাৎকারের উল্লেখ রয়েছে। অথচ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আরও বহু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কর্মরত যোগ্য চিকিৎসকেরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। সেই সব বিভাগের চিকিৎসকদের সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠন।এ এইচ এস ডির অভিযোগ, সাক্ষাৎকারের নোটিস জারির ক্ষেত্রেও যথাযথ নিয়ম মানা হয়নি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সাক্ষাৎকার ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন দূরবর্তী জেলা বা গ্রামীণ এলাকায় কর্মরত চিকিৎসকদের পক্ষে এত অল্প সময়ে কলকাতায় উপস্থিত হওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। সংগঠনের বক্তব্য, এতে বহু যোগ্য চিকিৎসক পদোন্নতির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।চিঠিতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এএইচএসডি। সংগঠনের দাবি, এর আগেও একই ধরনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সাইকিয়াট্রি বিভাগের এক চিকিৎসকের পদোন্নতি দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পরপরই তাঁকে রাজনৈতিক প্রার্থি হিসেবপ ঘোষণা করা হয়েছিল বলে দাবি সংগঠনের। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে বর্তমান বিজ্ঞপ্তি নিয়েও নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।এএইচএসডি-র বক্তব্য, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য থেকেই এই ধরনের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে চিকিৎসক মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, ২ মার্চের বিজ্ঞপ্তিটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সব বিভাগের জন্য একসঙ্গে স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট পদোন্নতি সূচি প্রকাশ করতে হবে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে পদোন্নতির সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে অন্তত ১৫ দিনের নোটিস দিতে হবে, যাতে রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকায় কর্মরত চিকিৎসকেরাও সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।এএইচএসডি-র সাধারণ সম্পাদক ডা. উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন, সংগঠনের এই দাবিগুলি উপেক্ষা করা হলে চিকিৎসকদের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।তবে এই অভিযোগ ও দাবির প্রেক্ষিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে বিষয়টি ঘিরে স্বাস্থ্য মহলে জল্পনা ও বিতর্ক আরও বাড়ছে।





