মণিপুরে টহলদারির সময় গুলিতে শহিদ মালদার বিএসএফ জওয়ান, শোকস্তব্ধ গ্রাম
মণিপুরে কর্তব্যরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হলেন মালদার এক বিএসএফ জওয়ান। নিহত জওয়ানের নাম মিঠুন মণ্ডল। তিনি মালদা জেলার মোথাবাড়ি থানার উত্তর লক্ষীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাগজান টোলা এলাকার বাসিন্দা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকাজুড়ে।জানা গিয়েছে, বিএসএফ এর ১৭০ ব্যাটালিয়নের জওয়ান মিঠুন মণ্ডল মণিপুরের উখরুল জেলার মংকোট চেপু এলাকায় টহলদারির সময় আচমকাই অজানা দিক থেকে গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচানো যায়নি। কর্তব্যরত অবস্থায় দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করায় তাকে শহিদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা নাগাদ প্রথমে ফোনে জানানো হয়, মিঠুন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এরপর মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই দ্বিতীয় ফোনে আসে দুঃসংবাদ। তিনি আর বেঁচে নেই। এই আকস্মিক খবরে ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার।মিঠুন মণ্ডল প্রায় ৮ বছর ১১ মাস আগে বিএসএফ-এ যোগ দেন এবং ১৭০ ব্যাটালিয়নের আলফা কোম্পানিতে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তিনি। তার বাবা একষট্টি বছরের মন্টু মণ্ডল পেষায় একজন কৃষক। যিনি চাষবাস করেই সংসার চালাতেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে মিঠুনই ছিলেন বড়। ছোট ভাই বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে সাহায্য করেন।প্রায় ৬ বছর আগে মিঠুনের বিয়ে হয় ছাব্বিশ বছরের সুলেখা মণ্ডলের সঙ্গে। তাদের দুটি ছোট সন্তান রয়েছে।একটি ৫ বছরের ছেলে এবং ৩ বছরের মেয়ে। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে স্ত্রীর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েছে পরিবার।বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা-ও, যিনি ছেলের অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। প্রতিবেশীরাও শোকাহত।সকলেই মিঠুনকে একজন ভদ্র, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে চিনতেন।এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের আবহ। স্থানীয় বাসিন্দারা শহিদ জওয়ানের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা ও একটি স্থায়ী চাকরির দাবিও উঠেছে।দেশরক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মিঠুন মণ্ডলের এই আত্মবলিদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মত স্থানীয়দের





