ভবানীপুরে ‘বলি’র হুমকি ঘিরে তীব্র বিতর্ক, উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি
আসন্ন ৪ঠা মে কে সামনে রেখে ভবানীপুরে এক বিতর্কিত রাজনৈতিক শপথ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। শাসকদলের একটি অংশের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা ‘FAM’ নামের একটি গোষ্ঠীর তরফে প্রকাশ্যে এমন একটি বক্তব্য সামনে এসেছে, যেখানে বিরোধী নেতা শুভপন্দু অধিকারীকে “বলি দেওয়া” এবং “রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটানো”-র মতো চরম মন্তব্য করা হয়েছে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।বিতর্কিত পোস্টে দাবি করা হয়েছে,ভবানীপুরের মাটিতে “গাদ্দার” এসে “পবিত্র মা কালীর ভূমিকে অপবিত্র করেছে” এবং সেই কারণে ৪ঠা মে-তে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘বলি’র শপথ নেওয়া হবে। পোস্টে আরও বলা হয়েছে, এই ‘রাজনৈতিক মৃত্যু’র মাধ্যমে রাজ্যের “শুদ্ধিকরণ” করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় #FAM4TMC হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বার্তাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজনৈতিক শিবিরগুলির মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই ধরনের বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকেই উসকে দেয় না, বরং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যও বিপজ্জনক। তাদের মতে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করা আইনের শাসন ও রাজনৈতিক সৌজন্যের পরিপন্থী।অন্যদিকে, শাসকদলের মূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলীয় সূত্রের একাংশের দাবি, এই ধরনের বক্তব্য কোনওভাবেই দলের সরকারি অবস্থান নয় এবং এটি ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত মতামত হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা অনানুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়েছেন, দল কখনওই হিংসা বা উস্কানিমূলক রাজনীতিকে সমর্থন করে না।বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে এ ধরনের উগ্র ভাষা প্রায়শই সামনে আসে, যা বাস্তবের চেয়ে বেশি প্রতীকী বা আবেগপ্রবণ হতে পারে। তবে এই ধরনের বক্তব্য জনমনে বিভাজন ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফেও বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, যদি কোনও বক্তব্যে সরাসরি হুমকি বা হিংসার ইঙ্গিত থাকে, তবে তা আইনের আওতায় আসতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।সব মিলিয়ে, ভবানীপুর-কেন্দ্রিক এই বিতর্ক নতুন করে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। ৪ঠা মে-র আগে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।





