মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে রেশন কেলেঙ্কারি,ইডির ভোরের হানা, তল্লাশিতে চাঞ্চল্য
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে কথিত রেশন দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ভোরে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ওরফে (ইডি)। জেলার হরহরি এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন শেখ ও মজিবুর রহমানের বাড়িতে একযোগে হানা দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই চলে এই অভিযান, ফলে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, শাহাবুদ্দিন শেখের আর্থিক লেনদেন ও আয় ব্যয়ের অসঙ্গতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, এর আগেও তাঁকে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি। সেই কারণেই এদিন সরাসরি তল্লাশির পথে হাঁটে ইডি। বাড়ির নথিপত্র, ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয় বলে খবর।অন্যদিকে, মজিবুর রহমানের বাড়িতেও সমান্তরালভাবে তল্লাশি চালানো হয়। যদিও স্থানীয় সূত্রের দাবি, মজিবুর বর্তমানে ওই এলাকায় থাকেন না। আর্থিক সমস্যার জেরে তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতেই বাড়িতে তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা।স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, “আগে ওরা চাল, ধান ও গমের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরে ধীরে ধীরে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এখন তাদের কোনও সক্রিয় ব্যবসা নেই বলেই জানি।” তাঁর আরও দাবি, পুরনো ব্যবসায়িক লেনদেনের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি হতে পারে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক কোনও কারণ নেই বলেই মনে করছেন তিনি।তবে তদন্তকারী সংস্থার তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কী কী নথি বা প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে, তা নিয়েও স্পষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই অভিযানের ফলে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও জল্পনা দুই-ই বেড়েছে।রাজ্য জুড়ে রেশন দুর্নীতি নিয়ে আগেই একাধিক তদন্ত চলছে। সেই প্রেক্ষিতে সাগরদিঘির এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং নতুন করে কারা জড়িয়ে পড়েন, সেদিকেই এখন নজর সবার।





