আরজি কর কাণ্ড, ২০ মাস পরও বিচার অধরা, সোদপুরে ‘রাত জাগো’য় নতুন করে ক্ষোভের বিস্ফোরণ
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এখনও ন্যায়বিচার না মেলায় ক্ষোভ থামছে না। প্রায় ২০ মাস পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকলের চিহ্নিতকরণ না হওয়ায় ছাত্র যুব ও মহিলা মহলে অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদকে ধারাবাহিক রূপ দিতে ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল থেকে প্রতি মাসের ৯ তারিখে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া, ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া এবং অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক উইমেনস অ্যাসোসিয়েশন সহ একাধিক গণসংগঠন। তাদের বক্তব্য, বিচারের দাবিকে জনমুখী ও ধারাবাহিক করতে এই কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুর ট্রাফিক মোড়ে অনুষ্ঠিত হয় এক ‘রাত জাগো’ কর্মসূচি। রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চলে এই প্রতিবাদ সভা। গানে, কবিতায় ও বক্তব্যে উঠে আসে ক্ষোভ, বেদনা এবং প্রতিবাদের ভাষা। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোধরা বাগচি।সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেয় খড়দহ সৃজন শাখা এবং গণনাট্য সংঘের পানিহাটি শাখা। উপস্থিত ছিলেন আত্রী গুহ, সোমা চক্রবর্তী দাস, রুনু ব্যানার্জি, কলতান দাশগুপ্ত, দেবজ্যোতি দাস, পূরবী সরকার, দেবজ্যোতি চক্রবর্তী ও সায়ন চক্রবর্তী সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। বক্তারা একসুরে দাবি তোলেন,এই ঘটনার দ্রুত বিচার এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।আন্দোলনকারীদের মতে, এই লড়াই শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বিচার পাওয়ার দাবি নয়।এটি নারী নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর সংগ্রামের অংশ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তদন্ত প্রক্রিয়ার গতি সন্তোষজনক নয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করছে।প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না। আগামী মাসগুলিতেও একইভাবে ৯ তারিখে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।সামাজিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধারাবাহিক আন্দোলন রাজ্যের নারী সুরক্ষা এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। ফলে আর জি কর কাণ্ড শুধু একটি অপরাধের ঘটনা নয়, বরং তা এখন বৃহত্তর সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিণত হয়েছে।





