অমরাবতী থেকে সোদপুর পর্যন্ত বিশাল র‍্যালি, পাশে বিপ্লব দেব এবং স্মৃতি ইরাণী,নারী সুরক্ষার ইস্যুতে সরব বিজেপি

পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের রাজনৈতিক লড়াইয়ে এক আবেগঘন মোড়। বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে এগিয়ে এলেন ‘অভয়ার মা’।একজন মা, যিনি ব্যক্তিগত শোক ও সংগ্রামকে পরিণত করেছেন বৃহত্তর সামাজিক বার্তায়। বৃহস্পতিবার সকালে অমরাবতী এলাকা থেকে সোদপুর ট্রাফিক মোড় পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে এই মনোনয়ন কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।র‍্যালিতে অংশ নেন অসংখ্য দলীয় কর্মী সমর্থক। আবেগ, স্লোগান আর পতাকার মিছিলে ভরে ওঠে গোটা পথ। এই কর্মসূচিতে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। যিনি প্রার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর লড়াইকে “সাহস ও ন্যায়ের প্রতীক” বলে উল্লেখ করেন।মিছিল শেষে সোদপুর ট্রাফিক মোড়ে আয়োজিত জনসভা কার্যত পরিণত হয় রাজনৈতিক বার্তার মঞ্চে। সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরাণি।তিনি বলেন “একজন মায়ের এই লড়াই শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, এটি দেশের প্রতিটি নারীর নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্ন।” তিনি আরও দাবি করেন, সমাজে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি।‘অভয়ার মা’এর প্রার্থীপদ ঘিরে বিজেপি স্পষ্টতই একটি আবেগঘন এবং সামাজিক বার্তা তুলে ধরতে চাইছে। দলীয় সূত্রের মতে, এই প্রার্থী শুধু একটি রাজনৈতিক মুখ নয়, বরং নারী সুরক্ষা, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরের প্রতীক।এদিনের সভায় বক্তারা বারবার নারী নির্যাতন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিচারপ্রক্রিয়ার গতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি, এই প্রার্থীর মাধ্যমে বিজেপি রাজ্যে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।স্থানীয় মানুষের মধ্যেও এই প্রার্থীপদ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই একজন মায়ের সাহসিকতাকে সম্মান জানিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন।সব মিলিয়ে, পানিহাটির এই মনোনয়ন পর্ব শুধু একটি নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়।এটি আবেগ, প্রতিবাদ এবং রাজনীতির এক বিশেষ মেলবন্ধন। এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই আবেগ কতটা প্রভাব ফেলে এবং ‘অভয়ার মা’-এর এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কী ফল বয়ে আনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *