সিভিক ভলেন্টিয়ার বিতর্কে ফের অস্বস্তিতে পুলিশ, বারাসাতে উর্দি পরে ঘোরাফেরা নিয়ে প্রশ্ন
বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের শিরোনামে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ভূমিকা। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে জেলা প্রশাসনিক দফতরের আশেপাশে এক সিভিক ভলেন্টিয়ারকে পুলিশের উর্দি পরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাওয়ায় শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দুটোই বাড়ছে।জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত সিভিক ভলেন্টিয়ারের নাম মহিনূর আলী। প্রত্যক্ষ দর্শীদের দাবি, তাঁকে একাধিকবার পুলিশের পোশাক পরে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, স্থানীয়দের অভিযোগ,তিনি মাঝেমধ্যেই সাধারণ মানুষকে ধমকানো ও ভয় দেখানোর মতো আচরণ করেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার কীভাবে পুলিশের পরিচয়ে এমনভাবে সক্রিয় হতে পারেন? সিভিক ভলেন্টিয়াররা পুলিশের সহায়ক হিসেবে কাজ করলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ বাহিনীর অংশ নয়। প্রশাসনিকভাবে তাদের ভূমিকা সীমিত এবং নির্দিষ্ট দায়িত্বের মধ্যেই আবদ্ধ থাকার কথা। কিন্তু অতীতে একাধিক ঘটনায় দেখা গিয়েছে, কিছু সিভিক ভলেন্টিয়ারের বেপরোয়া আচরণ পুলিশের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।এর আগে আরজিকর-কাণ্ডে খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বারাসাতের এই ঘটনা নতুন করে অস্বস্তি বাড়াল পুলিশ প্রশাসনের জন্য।এই প্রসঙ্গে বারাসাতের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার বিদ্যাগড় অজিঙ্ক আনন্ত জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি। তবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় যদি কেউ পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন, তা হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত। কারণ এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং প্রশাসনের উপর আস্থা নষ্ট হতে পারে।এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের নিয়ন্ত্রণে আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন কি না। পাশাপাশি, তাদের পরিচয় ও দায়িত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়ার দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে এবং প্রশাসন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিক কী পদক্ষেপ নেয়।





