ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দিয়ে আবেগঘন বার্তায় ২৯৪ আসনে জয়ের ডাক মমতার

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ে পৌঁছে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তিনি। এদিনের ভবানীপুরের তমণমূল প্রার্থীর পদযাত্রা ছিল বর্ণাঢ্য।নীল সাদা,থেকে তিরঙ্গা বেলুনে ছেয়ে যাওয়া মিছিলে প্রার্থী মমতার সঙ্গে ছিল অগণিত দলীয় নেতা কর্মী।মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আবেগঘন সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ৩৬৫ দিনই ভবানীপুরে থাকি। আমার ধর্ম-কর্ম-আন্দোলন সব কিছুই এই এলাকাকে ঘিরে। ছোটবেলা থেকে এখানেই আছি। এখান থেকেই আমার সব কিছু। তাই ভবানীপুরের মানুষকে ধন্যবাদ ও নমস্কার জানাই।”শুধু ভবানীপুর নয়, রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেস বা তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীদের জেতানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর কথায়, এই নির্বাচন শুধু একটি কেন্দ্রের লড়াই নয়, বরং গোটা রাজ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের লড়াই।মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, দলের নেতা সন্দীপ বক্সীসহ একাধিক শীর্ষ নেতা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তাঁর ভাই কার্তিক বন্দ্যেপাধ্যায়,ভাই বৌ কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কাউন্সিলর সন্দীপ বক্সী।এই উপস্থিতি মনোনয়নকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।এসআইআর প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করতে ও এদিন দেখা যায় মমতাকে।তবে তারপরেই মমতা বলেন সরকার আমরাই গড়বো।এদিন সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে কর্মী সমর্থকদের ভিড় জমতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ রাস্তার একাংশ গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেয়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষও হাত নেড়ে মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। মিছিল থেকে ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান।তবে এদিনের কর্মীদের উচ্ছাস এক উৎসবমুখর আবহ তৈরি করে।ভবানীপুর কেন্দ্রের ‘মিনি ইন্ডিয়া’ চরিত্রকেও এদিন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকদের তালিকায় বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়েছে। প্রস্তাবকদের মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমত (রুবি) হাকিম, সাংসদ-অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের স্বামী নিসপাল সিংহ রানে, তৃণমূল নেতা বাবলু সিংহ এবং সমাজকর্মী মীরজ শাহ। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত, যেখানে বাঙালি, গুজরাতি, পঞ্জাবি, মারোয়ারি, জৈন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান রয়েছে। আবার বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বহু মানুষের বসবাসও এই কেন্দ্রেই। এই বহুত্ববাদী সামাজিক কাঠামোকে সামনে রেখেই প্রার্থী তালিকা ও প্রচারে কৌশল সাজিয়েছে তৃণমূল।রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রস্তাবকদের মাধ্যমে বৈচিত্র্যের বার্তা তুলে ধরে ভবানীপুরের সামাজিক বাস্তবতাকেই নির্বাচনী কৌশলে পরিণত করলেন মমতা।এখন দেখার, এই কৌশল ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *