শীতলা পুজোয় মানবিক মুখ, আসানসোল উত্তরে আবেগে ভাসালেন মলয় ঘটক

আসানসোল উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মলয় ঘটক বরাবরই নিজের এলাকার মানুষের কাছে ‘আপনজন’ হিসেবেই পরিচিত। নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার মধ্যেও সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তিনি দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তুলেছেন, তারই এক আবেগঘন প্রতিফলন দেখা গেল সম্প্রতি এক শীতলা পুজোর আসরে।আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে আয়োজিত হয়েছিল শীতলা পুজো। সেই পুজোয় বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন বিদায়ী মন্ত্রী মলয় ঘটক। আমন্ত্রণ রক্ষা করে তিনি সেখানে পৌঁছনোর পরই যেন উৎসবের রং আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। স্থানীয় মানুষজন তাকে ঘিরে ধরেন, কেউ প্রণাম করেন, কেউবা হাতে হাত রেখে কথা বলতে চান।সব মিলিয়ে এক অনাবিল আবেগের মুহূর্ত তৈরি হয়।পুজোমণ্ডপে প্রবেশ করে তিনি দেবীর কাছে প্রার্থনা জানান এলাকার শান্তি, উন্নয়ন এবং মানুষের কল্যাণের জন্য। এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান। প্রবীণদের খোঁজখবর নেওয়া থেকে শুরু করে যুবকদের সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা।সবকিছুতেই ছিল তার সহজ, আন্তরিক উপস্থিতি।এই ছবি নতুন নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষের সঙ্গে এমন নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন মলয় ঘটক। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তাও বারবার তুলে ধরেছেন তিনি। শীতলা পুজোর মতো একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাকে আরও জোরালো করেছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, “ওনাকে আমরা নেতা হিসেবে নয়, আমাদের পরিবারের একজন মানুষ হিসেবেই দেখি। যখনই ডাকেছি, পাশে পেয়েছি।” এই ধরনের প্রতিক্রিয়াই স্পষ্ট করে দেয় কেন আসানসোল উত্তরে তার জনপ্রিয়তা এখনও অটুট।নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন আবেগঘন মুহূর্ত নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ, ভোটের অঙ্কের বাইরে গিয়ে মানুষের সঙ্গে এই ব্যক্তিগত সংযোগই একজন নেতাকে আলাদা করে তোলে।সব মিলিয়ে, শীতলা পুজোর এই অনুষ্ঠানে মলয় ঘটকের উপস্থিতি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, বরং ছিল মানুষের সঙ্গে হৃদয়ের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার এক আন্তরিক প্রয়াস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *