হনুমান জয়ন্তীতে বালুরঘাটে ভক্তির জোয়ার, মারোয়াড়ি সমাজের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় মুখর শহর
হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষ্যে বালুরঘাট শহরজুড়ে ভক্তি, উদ্দীপনা ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য চিত্র ফুটে উঠল। মারোয়াড়ি সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য ধর্মীয় শোভাযাত্রা এদিন শহরের পরিবেশকে উৎসবমুখর এবং আধ্যাত্মিক আবহে ভরপুর করে তোলে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবছরও এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিপুল সংখ্যক ভক্ত।শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে মূল সড়কগুলি পরিক্রমা করে। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল হনুমানজীর প্রতিকৃতি, গেরুয়া পতাকা এবং ধর্মীয় ধ্বজা। ঢাক ঢোল, কীর্তন ও ভজনের তালে তালে এগিয়ে চলে মিছিল। “জয় শ্রীরাম” এবং “জয় হনুমানজী” ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা শহর। ভক্তদের উচ্ছ্বাস, শৃঙ্খলা ও অংশগ্রহণ শোভাযাত্রাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই শোভাযাত্রার মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার পালন নয়, বরং সমাজের মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করা। বিভিন্ন বয়সের মানুষ,শিশু থেকে প্রবীণ এই আয়োজনে সামিল হয়ে এক মিলন মেলার পরিবেশ তৈরি করেন।শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অতিক্রম করে থানা মোড়ে অবস্থিত হনুমান মন্দিরে এসে শেষ হয়। সেখানে পূজা অর্চনার পর ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশেপাশের এলাকা থেকেও বহু মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।এক ভক্ত জানান, “এই ধরনের আয়োজন আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করে এবং একে অপরের সঙ্গে সংযোগ বাড়ায়। এখানে আমরা সবাই একসঙ্গে উৎসব উদযাপন করি, যা সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।”মারোয়াড়ি সমাজের এক প্রতিনিধি বলেন, “হনুমান জয়ন্তী আমাদের কাছে শুধু একটি ধর্মীয় দিন নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন। এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে আমরা ভক্তি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই।” প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শোভাযাত্রা ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, যাতে সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা না হয়। পুলিশের নজরদারিতে শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় গোটা অনুষ্ঠান।সবমিলিয়ে, বালুরঘাটে হনুমান জয়ন্তীর এই শোভাযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভক্তির এক উজ্জ্বল প্রকাশ। শহরের বাসিন্দাদের কাছে এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করল,উৎসবই মানুষকে একসূত্রে বাঁধার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।





