নকশাল মুক্ত’ নয়, শোষণমুক্ত ভারত চাই, মৌলালি থেকে ধর্মতলা মিছিলে সিপিআইএম-এল
নকশাল মুক্ত ভারত নয়, দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত ভারত গড়ে তোল’।এই স্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার কলকাতায় মৌলালি থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করল সিপিআই এম-এল নিউ ডেমোক্রেসি এবং বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নকশাল মুক্ত ভারত’ ঘোষণার বিরোধিতা করে এই কর্মসূচি সংগঠিত হয়।মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, কেন্দ্রের এই নীতি মূলত ভিন্নমত দমনের কৌশল। তাদের অভিযোগ, আদিবাসী, বনজীবী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের ‘নকশাল’ তকমা দিয়ে দমন করা হচ্ছে। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমি, বন ও জীবিকার অধিকারের প্রশ্নে যে আন্দোলন চলছে, তা নিছক আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখানো হচ্ছে।কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করা হয়। মঞ্চ থেকে দাবি তোলা হয়, ‘নকশালমুক্ত ভারত’-এর পরিবর্তে সরকার যেন দারিদ্র্য, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষক সমস্যার সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করে। তাদের মতে, সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলি অমীমাংসিত রেখে এই ধরনের রাজনৈতিক ঘোষণা বাস্তব সমস্যাকে আড়াল করে।মিছিল থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের নামে ভুয়ো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারি স্তরে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তরফে বরাবরই জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ ও মাওবাদী কার্যকলাপ দমনে নিয়ম মেনেই অভিযান চালানো হয়।আন্দোলনকারীরা ১৯৬৭ সালের নকশালবাড়ি আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য, সেই সময় জমির দাবিতে কৃষকদের যে বিদ্রোহ গড়ে উঠেছিল, তা ছিল শোষণবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক। বর্তমান সময়েও একই ধরনের বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তারা।এদিনের মিছিলে ছাত্র, শ্রমিক ও বিভিন্ন গণ সংগঠনের কর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ে।শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে মিছিলকে কেন্দ্র করে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচলেও প্রভাব পড়ে। তবে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি।সংগঠকদের দাবি, যতদিন দেশে বৈষম্য, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব থাকবে, ততদিন এই ধরনের আন্দোলন চলবে। ভবিষ্যতেও বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটার বার্তা দেওয়া হয়েছে এই কর্মসূচি থেকে।





