রাহুলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া, প্রিয়াঙ্কার পাশে জয়া,’তুমি লড়াইয়ের প্রতীক
টলিপাড়ায় এখনও কাটেনি রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুর শোক। তারই মধ্যে আবেগঘন বার্তায় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের পাশে দাঁড়ালেন জয়া আহসান। শোকের এই কঠিন সময়ে তাঁর বার্তা, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার, নিজেকে সামলে রাখার, আর ছোট্ট সহজকে আগলে রাখার।‘ভোলে বাবা পার করেগা’ প্রজেক্টের শুটিং চলাকালীনই ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সমুদ্রের ধারে শুটিংয়ের সময় সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা হঠাৎ পা পিছলে জলে পড়ে গেলে তাঁকে বাঁচাতে এক মুহূর্ত দেরি করেননি রাহুল। দ্রুত সমুদ্রে ঝাঁপ দেন তিনি। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই আচমকা জোয়ারের স্রোত বেড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রবল স্রোতের টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যান অভিনেতা। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার করে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে কার্যত ভেঙে পড়েছে টলিউড। সহকর্মী, বন্ধু থেকে শুরু করে অনুরাগী।সবার চোখেই জল। তবে সবচেয়ে কঠিন লড়াইটা লড়ছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার।কেওড়াতলা মহাশ্মশান থেকে স্বামীর অস্থি হাতে বেরনোর সময় তাঁকে দেখে যেন এক রণক্লান্ত যোদ্ধার ছবি ধরা পড়ে।চোখেমুখে জমাট বাঁধা যন্ত্রণা, তবুও নিজেকে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা।এই কঠিন সময়েই তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালেন জয়া আহসান। পরিচালক সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়ের ‘ঝরা পালক’ ছবিতে রাহুলের সঙ্গে কাজ করেছিলেন জয়া। সেটাই ছিল তাঁদের প্রথম এবং শেষ কাজ। সেই স্মৃতির টানেই যেন এই শোকবার্তা আরও গভীর।প্রিয়াঙ্কার উদ্দেশে জয়ার বার্তা, “প্রিয়াঙ্কা, তুমি লড়াইয়ের সমনাম।আজকের এই ঝড় ঝাপটার দিনে সামলে থেকো। আগলে রেখো সহজকে।” ২০১২ সালে জন্ম সহজের, এখন তারই ভবিষ্যৎ আর মানসিক শক্তির জন্য মায়ের এই লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।টলিপাড়ার অনেকেই মনে করছেন, রাহুলের এই আত্মত্যাগ চিরকাল মনে রাখবে ইন্ডাস্ট্রি। এক সহ অভিনেত্রীকে বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখা।এই সাহসিকতা তাঁকে আলাদা করে চিহ্নিত করে। আর সেই স্মৃতি বুকে নিয়েই সামনে এগোতে হবে প্রিয়াঙ্কা ও তাঁর পরিবারকে।





