শুটিংয়ে নায়কোচিত ঝাঁপ, আর ফেরা হল না,দিঘার জলে নিভে গেল রাহুল অরুণোদয়ের জীবন
রবিবার ছুটির সন্ধ্যায় বাংলা বিনোদন জগতে নেমে এল শোকের ছায়া। দিঘায় শুটিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাথমিক সূত্রের খবর, জলে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া থেকে থিয়েটার মহল।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘার তালসারি এলাকায় একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামের ওই প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছিলেন রাহুল। শুটিংয়ের সময় হঠাৎই সহ অভিনেত্রী শ্বেতা পা পিছলে জলে পড়ে যান। পরিস্থিতি বুঝে এক মুহূর্ত দেরি না করে তাঁকে বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দেন রাহুল।তবে সেই সময় আচমকাই জোয়ারের স্রোত বেড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রবল স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যান অভিনেতা। উপস্থিত টেকনিশিয়ান ও ইউনিটের সদস্যরা তড়িঘড়ি উদ্ধার করে তাঁকে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।যদি ও সরকারি ভাবে এখনও পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি, প্রাথমিক অনুমান, জলে ডুবে মৃত্যু।এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র বাংলা চলচ্চিত্র জগতে। সহকর্মী, পরিচালক থেকে শুরু করে ভক্তরা, সকলেই হতবাক। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তা জানিয়ে লিখেছেন, “শেষ মুহূর্তেও নায়কোচিত সাহস দেখালেন রাহুল।”মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই জীবনের ইতি টানলেন এই প্রতিভাবান অভিনেতা। বড়পর্দা, ছোটপর্দা এবং মঞ্চ,তিন ক্ষেত্রেই তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল। অভিনয় জীবনের শুরু ২০০০ সালে ‘চাকা’ ছবির মাধ্যমে। তবে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছন তিনি,চির দিনই তুমি যে আমার ছবির হাত ধরে। ওই ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়।এরপর একাধিক উল্লেখযোগ্য প্রজেক্টে নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তিনি। আবার আসব ফিরে ও জ্যাকপটএ তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। টেলিভিশন ধারাবাহিকেও তিনি ছিলেন সমান সাবলীল। সাম্প্রতিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকেও তাঁর চরিত্র দর্শকদের নজর কাড়ছিল।শুধু পর্দাতেই নয়, থিয়েটারেও তাঁর দখল ছিল উল্লেখযোগ্য। সহ অভিনেতাদের মতে, “রাহুল ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত মানুষ, সেটে সবসময় হাসিখুশি পরিবেশ রাখতেন।” তাঁর এই অকাল প্রয়াণে ব্যক্তিগত ও পেশাগত,দুই ক্ষেত্রেই অপূরণীয় ক্ষতি হল বাংলা সংস্কৃতি জগতের।বর্তমানে দিঘা হাসপাতালেই রয়েছে অভিনেতার দেহ। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও শেষ মুহূর্তে অন্যকে বাঁচাতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তিনি।আর সেখানেই জীবনের শেষ অধ্যায় লিখে গেলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই আত্মত্যাগ ও সাহস বাংলা বিনোদন জগতে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।





