দিঘায় মৃত্যুর রহস্য ঘনীভূত,ময়নাতদন্তে ফুসফুসে জলবালি, প্রশ্নে উদ্ধার সময়ের হিসেব
দিঘার সমুদ্রসৈকতে শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন তুলছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। সরকারি ভাবে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট এখনও প্রকাশ না হলেও প্রাথমিক তথ্যেই সামনে এসেছে এমন কিছু দিক, যা ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি বলে মনে করছেন অনেকে।সূত্রের খবর, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ নামের একটি প্রজেক্টের শুটিং চলাকালীন বিপত্তি ঘটে। সহ অভিনেত্রী শ্বেতা হঠাৎ পা পিছলে জলে পড়ে গেলে তাঁকে বাঁচাতে এক মুহূর্ত দেরি না করে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন রাহুল। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই আচমকা জোয়ারের স্রোত বেড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রবল স্রোতের টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তলিয়ে যান অভিনেতা। ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার করে তাঁকে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।এরপর সোমবার তমলুক মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাহুলের ফুসফুসে বিপুল পরিমাণ জল এবং বালির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। শুধু তাই নয়, শ্বাসনালী ও খাদ্যনালীতেও জল বালি ঢুকে যাওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ফুসফুস এতটাই ফুলে গিয়েছিল যে তা স্বাভাবিক আকারের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায়।যা সাধারণত দীর্ঘক্ষণ জলে ডুবে থাকার ক্ষেত্রেই দেখা যায়।এই জায়গাতেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।প্রোডাকশন টিমের দাবি, রাহুলকে চার থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই জল থেকে তুলে আনা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রাথমিক ধারণা বলছে, এত অল্প সময়ে ফুসফুসে এতটা জল ও বালি জমা হওয়া এবং এই মাত্রার ফুলে ওঠা অস্বাভাবিক। ফলে প্রশ্ন উঠছে আসলে ঠিক কতক্ষণ জলের তলায় ছিলেন অভিনেতা? উদ্ধারের সময়ের হিসাবে কি কোথাও গরমিল রয়েছে?তদন্তকারী মহলের একাংশ মনে করছে, সমুদ্রের স্রোতের তীব্রতা, জোয়ারের সময় এবং ঘটনাস্থলের ভৌগোলিক পরিস্থিতি।এই সবকিছুর বিস্তারিত বিশ্লেষণ না করলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে না। পাশাপাশি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং ইউনিটের সদস্যদের বক্তব্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।অন্যদিকে, ময়নাতদন্তের সময়সূচি নিয়েও কিছুটা দেরির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকাল আটটার সময় নির্ধারিত থাকলেও, কিছুটা পরে প্রক্রিয়া শুরু হয়। যদিও হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রক্রিয়াগত কারণে সামান্য বিলম্ব হয়।এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ টলিউড মহল। একজন সহনঅভিনেত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনায় রাহুলের সাহসিকতা যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনই তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পরিস্থিতি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।এখন নজর রয়েছে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং প্রশাসনিক তদন্তের দিকে। সেই রিপোর্ট সামনে এলেই স্পষ্ট হবে।এটি নিছকই দুর্ঘটনা, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে আরও কোনও অজানা সত্য।





