সভা শেষে আগুন! লাভপুরে অভিষেকের মঞ্চে রহস্য, তদন্তে প্রশাসন
বীরভূমের লাভপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা ঘিরে হঠাৎই চাঞ্চল্য ছড়াল শনিবার। সভা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মঞ্চের একাংশে আগুন লেগে যায়। এই ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যদিও দমকলের তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।শনি বার দুপুরে লাভপুরে নির্ধারিত জনসভায় ভাষণ দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে সরব হন তিনি। রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ এবং বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল নেতা। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে আগামী দিনের রূপরেখাও দেন তিনি।সভা শেষে মঞ্চ থেকে নেমে হেলিপ্যাডের দিকে রওনা দেন অভিষেক। ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই আচমকা মঞ্চের উপরের অংশ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই কাপড়ের অংশে আগুন জ্বলতে শুরু করে। ঘটনায় উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় দমকল বাহিনী। সভাস্থলে আগে থেকে মোতায়েন থাকা দমকলকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে উঠে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।নিরাপত্তার স্বার্থে মঞ্চের আশপাশ এলাকা খালি করে দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যাওয়া হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।স্বস্তির খবর, ঘটনার সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বড়সড় কোনও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।তবে কী কারণে এই আগুন লাগল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। আবার অন্য কোনও কারণও থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই দমকল ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। লাভপুরের সভার পর মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলায় আরেকটি জনসভা করার কথা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে হেলিকপ্টার নামতে সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফলে কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। জানা গিয়েছে, তিনি কলকাতায় ফিরে গিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ভগবানগোলার প্রার্থীর সমর্থনে প্রচার করবেন।এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনই নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকেও আঙুল উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচনের মুখে এ ধরনের ঘটনা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





