ঘাটালে ‘মাস্টার প্ল্যান’কে সামনে রেখে প্রচারে দেব, রাম মন্দিরে পুজো দিয়ে শুরু সমর্থন শ্যামলী সর্দারের পক্ষে
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘাটালে প্রচারে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেব। শনিবার কুশপাতা এলাকায় রাম মন্দিরে পুজো দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাটালে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামলী সর্দারের সমর্থনে প্রচার শুরু করেন। পুজোর পর “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি দিতেও শোনা যায় তাঁকে, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।এদিনের কর্মসূচির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল বহু প্রতীক্ষিত ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’। দীর্ঘদিন ধরে বন্যা সমস্যায় জর্জরিত ঘাটালকে স্থায়ী সমাধান দিতে এই প্রকল্পকে ঘিরে আশাবাদী স্থানীয় মানুষ। প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখে দেব জানান, প্রথমে যে রুটম্যাপ তৈরি হয়েছিল, তাতে বহু জমি ও বাজার এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ছিল। পরে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন করে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে মানুষের ক্ষতি কম হয়।দেবের কথায়, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে গেলে অনেক জমি প্রয়োজন। তাই এই প্রকল্প সফল করতে হলে ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০০ কোটি টাকা এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে এবং কাজও শুরু হয়েছে।বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে সাংসদ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়, এটি মানুষের প্রয়োজনের প্রকল্প। আমি ২০১৪ সাল থেকে এই বিষয়ে কথা বলে আসছি। কিন্তু বিরোধীরা কি কখনও কেন্দ্রের কাছে এই নিয়ে একটি চিঠিও লিখেছে?” তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের কাছে এখন আর উন্নয়ন মূলক কোনো ইস্যু না থাকায় তারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।দেব আরও বলেন, “মানুষ এখন নিজের চোখে কাজ হতে দেখছেন।ড্রেজিং শুরু হয়েছে, পাম্পিং স্টেশন তৈরি হচ্ছে। আমরা ললিপপ প্রতিশ্রুতি দিই না, কাজ করে দেখাই।” তিনি ইঙ্গিত দেন, এই প্রকল্প ঘাটালের চেহারা বদলে দিতে পারে এবং বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান এনে দিতে সক্ষম।রাজনৈতিক বার্তাও দেন দেব। তাঁর বক্তব্য, “যদি এবারও ঘাটালে তৃণমূল না জেতে, তাহলে রাজনীতি জিতবে, আর কাজ করা মানুষগুলো হেরে যাবে।” কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “অনেকে অনেক বড় বড় কথা বলেন।১৫ লক্ষ টাকা বা ২ কোটি চাকরি। বাস্তবে সেগুলো হয়নি।আমরা যা বলি, তা করে দেখাই।”প্রচারের শেষে দেব জানান, ঘাটালের উন্নয়নই তাঁর মূল লক্ষ্য। ‘মাস্টার প্ল্যান’ সম্পূর্ণ হলে ঘাটালবাসী বন্যার হাত থেকে মুক্তি পাবেন বলেও তিনি আশাবাদী।





