ভবানীপুরে ‘ফোটো বুথ’ রাজনীতি, মমতার সঙ্গে ছবি তুলে ভোট টানার নতুন কৌশল তৃণমূলের

ভোটের প্রচারে এবার অভিনবত্বের ছোঁয়া।এক তো হাই প্রফাইল কেন্দ্র।তাও আবার নয়া কৌশল।একে দম নতুন পথ এবার বেছে নিয়েছে ভবানীপুরের তৃণমূল কংগ্রেস। প্রচারের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে ‘ফোটো বুথ’ বা ‘ফোটো কর্নার’।যেখানে সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির পাশে ছবি তুলতে পারবেন।ভোটকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের সামনে থেকে দেখা,বা সেলফি তোলার প্রবনতা আছেই।কিন্তু রাজনৈতিক প্রচারে এমন উদ্যোগ বাংলায় প্রায় নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন অনেকেই।বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবার ভোটের ময়দানে সরাসরি প্রতিফলিত হতে চলেছে।গতবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভবানীপুর কেন্দ্র ছেড়ে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করেছিলেন।যদিও ফলাফল বলেছিল শুভেন্দু গড়ে ঘাসফুল ফোটেনি। সেই প্রেক্ষাপটে এবার মমতাগড়ে পদ।ম ফোটানোর লড়াই এ ভবানীপুরে প্রার্থী শুভেন্দু।ভোটারদের সঙ্গে তাই আরও সরাসরি সংযোগ গড়ে তুলতে এই নতুন কৌশল তৃনমূলের।এই ‘ফোটো বুথ’ উদ্যোগ মূলত তৃণমূলের ‘জয়হিন্দ বাহিনী’র সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রীর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়েট ভাবনা বলেই দলীয় সূত্রের খবর। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে ধাপে ধাপে এই বুথ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তদল মোড়ে তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে প্রথম ‘ফোটো কর্নার’ বসানো হয়েছে।বুথটির কাঠামো চতুর্ভুজ আকারের। ডানদিকে হাতজোড় করা মুখ্যমন্ত্রীর বড় ছবি, পাশে ফাঁকা জায়গা।যেখানে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ ছবি তুলতে পারবপন। উপরে তৃণমূলের প্রতীক জোড়াফুল এবং স্লোগান।উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে ভোট দিন। অন্যদিকে লেখা জয় বাংলা।সেখানেই লেখা রয়েছে মমতার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলুন, বাংলার কথা বলুন।এমনিতেই যেকোন অনুষ্ঠানে ফটো জোন এখন কমন ফ্যাক্টর।সেই ধারণাকেই রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করায় বিষয়টি নতুনত্ব পেয়েছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে এর সাড়া মিলেছে বলেই দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। অনেকেই শুধু ছবি তুলতেই বুথে ভিড় করছেন, এমনকি পথচলতি মানুষও আকৃষ্ট হচ্ছেন এই উদ্যোগে।ঘাস ফুলের দাবি, এই কৌশলের মাধ্যমে ভোটারদের আবেগের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল ভাবে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা ভোটারদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের টানতেই এই ধরনের ভিজ্যুয়াল প্রচার কার্যকরী হতে পারে বলে মনে করছে দল।তবে এবারে ভবানীপুর কেন্দ্রটি যতটা স্পর্শকাতর হয়ে আছে সেখানে প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী নিজেও জানিয়েছেন, “এক ভোটে হলেও জিতব।”গতবারের নন্দীগ্রামের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভোট কান্ডারি থেকে দলের শীর্ষ নেতৃত্ত্ব বার বার বলছেন এবার আর লোডশেডিং হবে না। কিন্তু তবুও এহেন ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ফিরহাদ হাকিম এবং সুব্রত বক্সীর ওপর যে বার্তি চাপ আছে তা বলাই বাহুল্য।চাপ রয়েছে কেন্দ্রের কর্মীদের ওপরেও।দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ইতিমধ্যেই ভোটের ব্যাবধান বেঁধে দিয়েছেন।সব মিলিয়ে, ভবানীপুরে ভোটের লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও নতুন মোড় নিচ্ছে। ‘ফোটো বুথ’ সেই পরিবর্তনেরই এক ঝলক।যেখানে প্রচার আর জনসংযোগ মিশে যাচ্ছে নতুন এক ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতায়।তবে সব মিলিয়ে প্রশ্ন এখন একটাই।এখন দেখার ২০২১এর ১৯৫৬ ভোটের ব্যাবধান এবার বাড়ে না কমে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *