গ্যাসের দামে আগুন, শহরে জ্বালানি সঙ্কট, খালি সিলিন্ডার কাঁধে পথে নামছে INTUC

এলপিজির দাম বৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।তার মধ্যেই তৈরি হয়েছে জ্বালানির গভীর সঙ্কট। শহরের একাধিক অটো স্ট্যান্ডে দেখা যাচ্ছে অস্বাভাবিক ছবি।অটো নেই, যাত্রীরা অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মধ্যরাত থেকেই লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের, এলপিজি পাওয়ার আশায়।পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে যুদ্ধ শুরুর পর কেন্দ্র সরকার কি পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছিল? জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদী কোনও পরিকল্পনা ছিল কি? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আমদানি নির্ভরতার উপর অতিরিক্ত ভরসা এবং বিকল্প জ্বালানি নীতির অভাবই এই “এনার্জি লকডাউন”এর মতো পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।শহরের অটোচালকরা জানাচ্ছেন, আগের মতো সহজে এলপিজি মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ থাকছে বা দেরিতে পৌঁচচ্ছে। ফলে গাড়ি নামাতে পারছেন না বহু চালক। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যযাত্রীদের উপর।অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী, সকলেই ভোগান্তির শিকার।এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তুঙ্গে। বিরোধীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রশ্নে কেন্দ্রের উদাসীনতা স্পষ্ট। “মানুষের পেট আগে, নাকি ভোটের রাজনীতি?” এই প্রশ্ন তুলে সরব তারা। অন্যদিকে শাসক শিবিরের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরেই এই সমস্যা, এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।এই ইস্যুতেই প্রতিবাদে নামছে শ্রমিক সংগঠন INTUC। বৃহস্পতিবার এক অভিনব কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। মহম্মদ আলি পার্ক থেকে সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউর বিজেপি অফিস পর্যন্ত মিছিল করবেন সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা। তাঁদের মাথায় থাকবে খালি গ্যাস সিলিন্ডার।প্রতীকী এই প্রতিবাদের মাধ্যমেই তারা বোঝাতে চান, ঘরে ঘরে জ্বালানির সঙ্কট কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে।আয়োজকদের দাবি, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের প্রতিফলন। “এটা কোনও দলীয় ইস্যু নয়, এটা মানুষের বাঁচার প্রশ্ন,”জানিয়েছেন সংগঠনের এক নেতা।পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে দ্রুত সমাধান না হলে শহরের গণপরিবহন ও দৈনন্দিন জীবন আরও বিপর্যস্ত হতে পারে। এখন দেখার, এই সঙ্কট মোকাবিলায় প্রশাসন কতটা দ্রুত এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *