শুল্ক কমল, দাম কি কমবে? যুদ্ধের বাজারে তেলের অঙ্কে ‘রিলিফ’ না ‘রিসেট’

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে ক্রমশ বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। তার প্রভাব সামাল দিতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার পেট্রল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক লিটার প্রতি ১০ টাকা করে কমানোর ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে পেট্রলের ক্ষেত্রে শুল্ক নেমে এল লিটার প্রতি ৩ টাকায়, আর ডিজেলের উপর কার্যত শূন্য শুল্ক বলেই জানানো হয়েছে।সরকারের এই পদক্ষেপকে আপাতভাবে স্বস্তির খবর মনে হলেও, বাস্তবে সাধারণ মানুষের পকেটে তার প্রভাব কতটা পড়বে তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। কারণ, বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক হ্রাসের সরাসরি সুবিধা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই সীমিত।গত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও, দেশের পাম্পগুলিতে সেই অনুপাতে দাম বাড়ানো হয়নি। সরকার নিয়ন্ত্রিত মূল্য ব্যবস্থার কারণে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি বিক্রি করে আসছিল। ফলে তাদের উপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে শুল্ক কমানো হলেও, সেই ‘মার্জিন’ ব্যবহার করে সংস্থাগুলি আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে বলেই আশঙ্কা। অর্থাৎ, সরকার শুল্ক কমালেও পাম্পে গিয়ে সাধারণ ক্রেতা তেমন দাম কমতে দেখবেন না এমনটাই ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞদের।এক অর্থে, এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি মূল্যছাড় না বলে ‘ফিসক্যাল অ্যাডজাস্টমেন্ট’ বলেই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, সরকার এখানে রাজস্ব কমিয়ে তেল সংস্থাগুলিকে কিছুটা আর্থিক স্বস্তি দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বড়সড় মূল্যবৃদ্ধি এড়ানো যায়।এমন ই দাবি করেছেন দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

তবে বিরোধীদের একাংশের দাবি, এই পদক্ষেপে “দেখনদারি” বেশি, বাস্তব উপকার কম। তাদের অভিযোগ, যদি সত্যিই সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে হতো, তবে সরাসরি খুচরো দামে কাটছাঁট নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।অন্যদিকে, সরকারপক্ষের যুক্তি, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হঠাৎ করে পুরো দাম কমিয়ে দিলে ভবিষ্যতে বড় ধাক্কা আসতে পারে। তাই ধাপে ধাপে চাপ কমানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে, শুল্ক কমানোর ঘোষণা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পের দামে বড় কোনও পরিবর্তন দেখার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।এই সিদ্ধান্তে আদৌ কতটা উপকৃত হবেন আমজনতা, নাকি এটি কেবল তেল সংস্থাগুলির ক্ষতি সামাল দেওয়ারই একটি উপায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *