হায়দরাবাদে রাজনৈতিক চাপানউতোর,‘গৃহবন্দি’ অভিযোগে সরব BRS, পারিগি যেতে বাধা হরিশ রাওকে
শিল্পপার্ক ঘিরে কৃষক অসন্তোষের আবহে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তেলেঙ্গানায়। ভারত রাষ্ট্র সমিতি বা বিআরএসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দলের প্রভাবশালী নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী টি হরিশ রাওকে কার্যত গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে, যাতে তিনি পারিগি এলাকায় যেতে না পারেন।
দলের অভিযোগ, পারিগিতে প্রস্তাবিত একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের কারণে বহু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেই পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলতে যাওয়ার কথা ছিল হরিশ রাওয়ের। কিন্তু প্রশাসন তাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়নি বলেই দাবি বিআরএসের।
বিআরএস নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু হরিশ রাও নয়, দলের একাধিক নেতাকেও বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, পুলিশি নজরদারি এবং প্রশাসনিক বিধিনিষেধ জারি করে তাদের পারিগিতে প্রবেশ আটকে দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে না পারেন বিরোধী নেতারা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।বিআরএসের অভিযোগ, সরকার পরিকল্পিতভাবে কৃষকদের সমস্যাকে আড়াল করতে চাইছে এবং বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, যদি সত্যিই কোনও সমস্যা না থাকে, তবে বিরোধী নেতাদের সেখানে যেতে বাধা দেওয়ার কারণ কী?
অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গৃহবন্দি’ করার অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি। সূত্রের খবর, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। পারিগি এলাকায় যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সেই কারণেই এই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পায়ন বনাম কৃষিজমি রক্ষার ইস্যুতে তেলেঙ্গানায় নতুন করে সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। একদিকে সরকার উন্নয়নের স্বার্থে শিল্পপার্ক গড়ে তোলার পক্ষে সওয়াল করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা কৃষকদের জমি ও জীবিকার সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে জনমত সংগঠিত করার চেষ্টা করছে।
পুরো ঘটনার দিকে নজর রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের। আগামী দিনে এই ইস্যু আরও বড় রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নেবে কিনা, সেটাই এখন দেখার।





